কৌশিকী অমাবস্যার ব্যস্ততা কাটতেই তারাপীঠে শুরু হয়েছে মন্দির সংস্কারের কাজ। আর সেই কারণেই আগামী কয়েক সপ্তাহ মূল গর্ভগৃহে থাকবেন না মা তারা। স্বাভাবিকভাবেই দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের মনে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কি বন্ধ থাকবে মায়ের পুজো কিংবা দর্শন? মন্দির কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়ে দিয়েছে, পুজো বন্ধ হচ্ছে না।
জানা গিয়েছে, ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার পর মা তারার বিগ্রহকে মূল গর্ভগৃহ থেকে মন্দির চত্বরের শিবমন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সংস্কারের কাজ চলাকালীন সেখানেই অধিষ্ঠান করবেন দেবী। প্রায় ২৫ দিন ধরে সংস্কারের কাজ চলার কথা। মহালয়ার আগের রাতে ফের মূল মন্দিরে ফিরবেন মা তারা।
শিবমন্দির থেকেই চলবে পুজো
গর্ভগৃহে সংস্কারের কাজ চললেও মায়ের নিত্যপুজো, আরতি এবং ভোগ কোনও কিছুই বন্ধ থাকছে না। শিবমন্দির থেকেই নিয়ম মেনে সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান করা হবে। ফলে ভক্তরাও সেখান থেকেই মায়ের দর্শন ও পুজো দিতে পারবেন।
তবে শিবমন্দিরে প্রবেশের জন্য একটি মাত্র গেট থাকায় ভিড়ের সময় কিছুটা বেশি অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে।
দর্শনার্থীদের জন্য বদলাচ্ছে মন্দিরের কাঠামো
কৌশিকী অমাবস্যার পর ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের পরামর্শ মেনে সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। মূল লক্ষ্য, ভবিষ্যতে ভক্তদের দর্শনের অভিজ্ঞতা আরও সহজ করা।
সংস্কারের অংশ হিসেবে নাটমন্দির থেকে মায়ের দর্শনে যাতে কোনও বাধা না থাকে, সে জন্য মূল মন্দিরের সামনের দরজা প্রায় এক ফুট উঁচু করা হচ্ছে। পাশাপাশি মায়ের বেদিও প্রায় আট ইঞ্চি উঁচু করা হচ্ছে। ফলে নাটমন্দির থেকেই ভক্তরা আরও স্পষ্টভাবে মা তারার দর্শন করতে পারবেন।
এর পাশাপাশি মন্দিরের ভিতর ও বাইরের অংশে রং করার কাজ চলছে। পুরনো টেরাকোটার কাজেও সংস্কারের মাধ্যমে নতুনভাবে সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, কয়েক সপ্তাহের জন্য গর্ভগৃহে মা তারার দর্শন না মিললেও ভক্তদের পুজো-দর্শনে ছেদ পড়ছে না। সংস্কারের কাজ শেষ হলে নতুন সাজে ফের মূল মন্দিরে অধিষ্ঠান করবেন মা তারা।







