কলকাতা

টুলু মণ্ডলের আবেদন খারিজ হাইকোর্টে, এফআইআর বাতিল ও রক্ষাকবচের আর্জিতে ধাক্কা

টুলু মণ্ডলের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরগুলি বাতিলের পাশাপাশি রক্ষাকবচ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বীরভূমের ‘পাথরসম্রাট’ তথা তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ টুলু মণ্ডল। মঙ্গলবার সেই আবেদন খারিজ করে দেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।

বীরভূমের তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করে রাজ্য পুলিশ। প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদের পাশাপাশি সেখান থেকে প্রায় ১৫ কেজি সোনাও বাজেয়াপ্ত করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই বিপুল উদ্ধারের পর তদন্তকারীদের নজরে চলে আসেন টুলু। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি সম্পত্তি তৈরি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ধারাবাহিক তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

তবে এখনও পর্যন্ত টুলু মণ্ডলের কোনও সন্ধান পাননি তদন্তকারীরা। তিনি কোথায় আত্মগোপন করে রয়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য এখনও পুলিশের হাতে নেই। এই পরিস্থিতিতে হাইকোর্টে তাঁর আবেদন খারিজ হওয়ায় তদন্তে টুলুর উপর চাপ আরও বাড়ল।

হিসাববহির্ভূত অর্থ, আত্মীয়ের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের পাশাপাশি বীরভূমে সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই টুলুর কয়েক জন আত্মীয় ও পরিচিতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যেই বোলপুরের একটি ঘটনাতেও তদন্তের সূত্রে উঠে এসেছে টুলু মণ্ডলের নাম।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বোলপুরের মহিদাপুর এলাকায় একটি চারচাকা গাড়ি আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়িটিতে চালক-সহ মোট তিন জন ছিলেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং গাড়িতে তল্লাশি চালানোর পর প্রচুর নগদ টাকা এবং বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। এক পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য, গাড়ি থেকে পশ্চিম এশিয়ার মুদ্রাও মিলেছে। যদিও মোট কত টাকা ও বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার হয়েছে, সেই পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়।

গাড়িচালক ছাড়াও ভিতরে থাকা দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁদের সূত্র ধরেই ফের টুলু মণ্ডলের নাম সামনে আসে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। তদন্তকারীদের বক্তব্য, ওই গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন টুলুর শালা মিন্টু শেখের শালা শান্ত শেখ। উদ্ধার হওয়া টাকা টুলুর ওই আত্মীয়ের বলে দাবি পুলিশের। ফলে এই ঘটনায়ও টুলুর কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

উদ্ধার হওয়া নগদ ও বিদেশি মুদ্রার উৎস কোথায়, সেগুলি কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল—এই সমস্ত বিষয়ই এখন তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.