স্বামী-স্ত্রীর বিবাদ মেটাতে বসেছিল সালিশি সভা। কিন্তু সেই সভাই শেষ পর্যন্ত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল। দু’পক্ষের মধ্যে বচসা থেকে শুরু হয় সংঘর্ষ। ধারালো অস্ত্র ও কাঠের বাটাম দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় আহত হয়েছেন আটজন স্থানীয় বাসিন্দা। উত্তেজনা ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ির মাগুরমাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব আলতাগ্রামের প্রধানপাড়া এলাকায়। এই ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হবিবার রহমান ও তাঁর স্ত্রী আলিমা খাতুনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক অশান্তি চলছিল। অভিযোগ, সম্প্রতি সেই বিবাদের জেরে স্বামীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেন আলিমা। স্থানীয় বাসিন্দারা তাতে বাধা দেন বলে দাবি।
এরপর বিবাদ মেটাতে প্রতিবেশী ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশি সভার আয়োজন করেন হবিবার রহমান। সেখানে আলিমার বাপের বাড়ির লোকজনও উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ, আলোচনা চলাকালীন দু’পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে গড়ায়। সেই সময় দা-সহ ধারালো অস্ত্র এবং কাঠের বাটাম দিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় আটজন আহত হন।
**পুলিশের হেফাজতে তিনজন**
ঘটনার খবর পেয়ে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ এলাকায় পৌঁছয়। তার আগেই উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা তিনজনকে আটক করেন বলে জানা গিয়েছে। পরে পুলিশ তাঁদের নিজেদের হেফাজতে নেয়। আটক তিনজনকেই চিকিৎসার জন্য ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে, আহত আটজনও প্রাথমিক চিকিৎসার পর থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
ঘটনাস্থল থেকে ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। কী কারণে সালিশি সভায় পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হয়ে উঠল, সংঘর্ষে কার কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পারিবারিক অশান্তি মেটানোর উদ্দেশ্যে ডাকা সভা থেকেই এমন সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।







