অন্যের গাছে আম পাড়ার “অপরাধে” মার খেতে হল এক কিশোরকে—চোখে গুরুতর চোট নিয়ে এখন সে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। হুগলির কোন্নগর মাস্টারপাড়া থেকে উঠে আসা এই ঘটনার খবর রীতিমতো আলোড়ন ফেলেছে এলাকায়।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুই কিশোর আম পাড়তে গিয়েছিল এক বাড়ির আমগাছে। একজন পালিয়ে গেলেও ধরা পড়ে যায় সোমন ডোম (১৪)। অভিযোগ, এরপরই তাকে বেধড়ক মারধোর করা হয়। মারধরের তীব্রতায় রীতিমতো রক্তাক্ত হয় সোমনের মুখ ও চোখ। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় হাসপাতালে।
প্রথমে কোন্নগরের স্থানীয় হাসপাতালে, পরে শ্রীরামপুর মহকুমা হাসপাতাল এবং সেখান থেকে কলকাতা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয় কিশোরকে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও পরিস্থিতির অবনতি ঘটে ফের।
পরিবার জানায়, বাড়ি ফেরার পর থেকেই সোমনের চোখে অসহনীয় যন্ত্রণা শুরু হয়। অবশেষে শনিবার তাকে ভর্তি করা হয় কোন্নগর মাতৃ সদনে। চিকিৎসকেরা চোখের অবস্থা দেখে ফের কলকাতা মেডিকেলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।
সোমনের পরিবারের অভিযোগ, যাঁর গাছে আম পাড়তে গিয়েছিল ছেলেটি, সেই বাড়ির লোকজন এবং এক টোটোচালক মিলে তাকে নির্মমভাবে মারধোর করেছে।
যদিও অভিযুক্ত পরিবার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা জানায়, এমন কোনও ঘটনার খবরই তাদের কাছে নেই।
এদিকে, উত্তরপাড়া থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
একটা গাছের কয়েকটি আম পাড়তে গিয়ে যদি একটা চোখ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়, তবে সমাজের মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই হয়!







