পিরিয়ডের সময় যৌনমিলন—এই বিষয়টি এখনও অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর বা ‘ট্যাবু’ হিসেবে বিবেচিত হয়। রক্তপাত, অগোছালো ভাব কিংবা স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা থেকেই এই ধারণা। তবে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সতর্কতা মেনে চললে পিরিয়ডের সময় শারীরিক সম্পর্ক স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর নয়। বরং কিছু ক্ষেত্রে এর উপকারিতাও রয়েছে।
ব্যাঙ্গালোরের অ্যাপোলো হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাহানা কেপি জানাচ্ছেন, ঋতুস্রাবের সময় জরায়ু থেকে নিঃসৃত রক্ত ও তরল প্রাকৃতিক লুব্রিকেন্ট হিসেবে কাজ করে। এর ফলে সহবাস তুলনামূলকভাবে আরও মসৃণ ও আরামদায়ক হতে পারে। পাশাপাশি অর্গ্যাজ়মের সময় শরীরে নিঃসৃত এন্ডোরফিন বা ‘হ্যাপি হরমোন’ মাসিকের সময় হওয়া তীব্র ব্যথা ও খিঁচুনি কমাতে সাহায্য করে এবং মেজাজও ভালো রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পিরিয়ড চলাকালীন যৌনমিলন সাধারণত নিরাপদ হলেও কিছু ঝুঁকি থেকে যায়। ঋতুস্রাবের রক্তে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে এবং এই সময় সার্ভিক্স কিছুটা খোলা থাকে। ফলে STI বা যৌনবাহিত রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। তাই এই সময়ে কনডম ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়াও, অনেকের ধারণা পিরিয়ডের সময় গর্ভধারণ অসম্ভব। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, ঝুঁকি কম হলেও পুরোপুরি শূন্য নয়। শুক্রাণু শরীরের ভিতরে কয়েকদিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ এড়াতে সুরক্ষা ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের।
পিরিয়ডের সময় সেক্সের সম্ভাব্য সুবিধা
মাসিকের ব্যথা ও খিঁচুনি কমতে পারে
স্বাভাবিক লুব্রিকেশনের কারণে আরামদায়ক অনুভূতি
মেজাজ ভালো রাখা ও মানসিক চাপ কমানো
ঝুঁকি ও সতর্কতা
STI সংক্রমণের সম্ভাবনা
অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঝুঁকি
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে সংক্রমণ হতে পারে
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
পিরিয়ডের সময় শারীরিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। উভয় পক্ষ যদি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং যথাযথ সুরক্ষা—বিশেষ করে কনডম—ব্যবহার করা হয়, তাহলে এটি সাধারণত নিরাপদ। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সতর্কতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।







