ঘুমোতে যাওয়ার আগে মোবাইলের ডেটা বন্ধ করেন? নাকি সারারাত Wi-Fi কিংবা মোবাইল ইন্টারনেট চালু রেখেই ফোনটা পাশে রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েন? এই অভ্যাস নিয়ে অনেকের মনেই রয়েছে আতঙ্ক। বিশেষ করে মোবাইলের রেডিয়েশন শরীরের ক্ষতি করছে কি না, তা নিয়ে নানা কথা শোনা যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে ভয় পাওয়ার আগে জানা দরকার আসল সমস্যাটা কোথায়।
রাতে ইন্টারনেট চালু থাকলে একের পর এক নোটিফিকেশন আসতে পারে। কোনও মেসেজ, সোশ্যাল মিডিয়ার আপডেট কিংবা অ্যাপের অ্যালার্ট ঘুমের মাঝেই ফোনের দিকে মনোযোগ টেনে নিতে পারে। ফলে বারবার ঘুম ভাঙা বা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আসল ‘ভিলেন’ কি মোবাইলের নীল আলো?
ঘুমানোর ঠিক আগে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করাই বেশি সমস্যার কারণ হতে পারে। ফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো শরীরে মেলাটোনিনের স্বাভাবিক উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। এই হরমোন ঘুমের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত। ফলে বিছানায় যাওয়ার পরেও ফোন ঘাঁটতে থাকলে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে।
অর্থাৎ, ডেটা অন থাকার চেয়ে ফোনের স্ক্রিনে চোখ আটকে থাকাটাই বড় সমস্যা।
রেডিয়েশন নিয়ে কি সত্যিই ভয় আছে?
মোবাইল ডেটা বা Wi-Fi থেকে তৈরি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, এর মাত্রা অত্যন্ত কম। এই ধরনের রেডিয়েশনের কারণে শরীরের কোষে বড় ধরনের ক্ষতি বা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে—এমন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
তাই শুধু রেডিয়েশনের ভয়েই প্রতিদিন রাতে ইন্টারনেট বন্ধ করা বাধ্যতামূলক—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর কারণ নেই।
তবুও রাতে ডেটা বন্ধ রাখলে সুবিধা
রাতে ইন্টারনেট বন্ধ রাখলে ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা বিভিন্ন অ্যাপের সিঙ্ক ও আপডেটের কাজ কমে যায়। এতে কিছুটা ব্যাটারি সাশ্রয় হতে পারে। পাশাপাশি নোটিফিকেশনের বিরক্তিও থাকে না।
Wi-Fi রাউটারও তুলনামূলকভাবে কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। তাই সারা রাত বন্ধ রাখলে বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হওয়ার সম্ভাবনা কম।
ঘুম ভালো রাখতে কী করবেন?
ঘুমানোর আগে অন্তত কিছুটা সময় ফোন থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। প্রয়োজন না থাকলে নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন বা ‘Do Not Disturb’ চালু করুন। বিছানায় শুয়ে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল স্ক্রল করার অভ্যাসও কমানো জরুরি।
তাই রাতে মোবাইলের ডেটা অন থাকলেই শরীরে বড় ক্ষতি হবে—এমন প্রমাণ নেই। বরং ঘুমের আগে ফোন ব্যবহারের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করাই হতে পারে সুস্থ ঘুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি।







