Uncategorizedজেলারাজনীতি

হুগলিতে তৃণমূলের অন্দরকলহ! পদত্যাগের নির্দেশ অমান্য করে অনড় দুই চেয়ারম্যান — দলের সিদ্ধান্তে প্রশ্ন অমিত রায়ের

হুগলি: লোকসভা ভোটে খারাপ ফলের জেরে সংগঠনে রদবদল শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের নির্দেশ অনুযায়ী, হুগলি জেলার দুই পৌরসভার চেয়ারম্যানকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। কিন্তু, তৃণমূলের নির্দেশ মানতে নারাজ হুগলি চুঁচুড়া পৌরসভার চেয়ারম্যান অমিত রায় ও বাঁশবেড়িয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান আদিত্য নিয়োগী। দলের জেলা সভাপতির মৌখিক ও লিখিত নির্দেশের পরেও এখনও পর্যন্ত পদত্যাগপত্র জমা দেননি তাঁরা।

তৃণমূলের হুগলি-শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অরিন্দম গুঁইন জানান, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, যেখানে নির্বাচনের ফল খারাপ, সেখানে সংগঠনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই মতোই দুই পৌরসভার চেয়ারম্যানকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। দলের নির্দেশ মানা প্রত্যেকের কর্তব্য।”

তবে দলের এই সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন চুঁচুড়ার চেয়ারম্যান অমিত রায়। তাঁর বক্তব্য,

“আমাকে চেয়ারম্যান করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সী। যদি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে সেটা রাজ্য নেতৃত্বের লিখিত নির্দেশে হওয়া উচিত। কোনও লিখিত নোটিস পাইনি। মৌখিকভাবে পদত্যাগ করব না।”

তিনি আরও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই। লোকসভা ভোটে পৌরসভা এলাকায় দেড় হাজার ভোটে হার হয়েছে, কিন্তু বিধানসভা ও পঞ্চায়েতেও তেমন হার রয়েছে। তাহলে বিধায়ক ও পঞ্চায়েত প্রধানদেরও কি সরানো হবে?”

অমিত রায়ের এই বক্তব্যে তৃণমূলের জেলা সংগঠনের অন্দরে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, স্থানীয় বিধায়ক ও পৌর নেতৃত্বের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে এল এই ঘটনাকে ঘিরে।

অন্যদিকে বাঁশবেড়িয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান আদিত্য নিয়োগী বলেছেন, “এটা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। যা বলার, দলের মধ্যেই বলব।”

সূত্রের খবর, ২০২২ সালের পৌরভোটের পর চুঁচুড়া পৌরসভায় তৎকালীন চেয়ারম্যান গৌরীকান্ত মুখোপাধ্যায়কে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অমিত রায়কে। সেই সময়ও বিধায়ক শিবিরে অসন্তোষ দেখা গিয়েছিল। পরে কাউন্সিলরদের একাংশ অমিত রায়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে দলের রাজ্য নেতৃত্বকে চিঠি দেন, কিন্তু তা গ্রহণ করা হয়নি।

গত লোকসভা ভোটে চুঁচুড়া বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল প্রার্থী পিছিয়ে পড়েছিলেন ৮,৫০০ ভোটে, আর সপ্তগ্রাম বিধানসভার অন্তর্গত বাঁশবেড়িয়া পৌরসভা এলাকায় পিছিয়ে ছিলেন ১১,০০০ ভোটে। এই কারণেই দুই পৌরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল।

তবে দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে — কারণ হুগলির দুই চেয়ারম্যানই এখনও পর্যন্ত “দলের লিখিত নির্দেশ ছাড়া পদ ছাড়বেন না” বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

রাজনৈতিক মহলে এখন জল্পনা, দুই পৌরসভায় এই অচলাবস্থা সামলাতে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.