হংকং সিক্সে দুর্দান্ত সূচনা করেছিল ভারত। পাকিস্তানকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের শুরুতেই আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর ছিল দীনেশ কার্তিকের দল। কিন্তু শনিবার যেন সব উলটে গেল। একদিনে তিন ম্যাচ— তিনটিতেই পরাজয়! কুয়েত, আরব আমিরশাহী এবং নেপালের বিরুদ্ধে টানা হারের মুখে পড়ে কার্যত পিছিয়ে গেল ভারতীয় দল।
প্রথম ম্যাচে কুয়েতের বিরুদ্ধে বোলিং বিপর্যয়ে ৬ ওভারে ১০৬ রান তোলে প্রতিপক্ষ। অভিমন্যু মিঠুন ২টি উইকেট পেলেও বাকি বোলাররা ছিলেন ছন্নছাড়া। দীনেশ কার্তিক নিজে বল হাতে ওভারে দেন ২৩ রান, আর প্রিয়াঙ্ক পাঞ্চালের ওভার থেকে আসে ৩২ রান। ১০৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। উথাপ্পা শূন্য, কার্তিক ৮, বিনি ২ রানে ফেরেন। শেষে মিঠুন (২৬) এবং নাদিম (১৯) কিছুটা লড়াই করলেও জেতাতে পারেননি দলকে। ভারত থামে ৭৯ রানে। ২৭ রানে জয়ী কুয়েত। ম্যাচসেরা ইয়াসিন প্যাটেল (১৪ বলে ৫৮ রান, ৩ উইকেট)।
দ্বিতীয় ম্যাচে আরব আমিরশাহীর বিরুদ্ধে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে ভারত। তবে শুরুটা এখানেও ভয়ানক — ১২ রানে ৩ উইকেট হারায় টিম ইন্ডিয়া। চিপলি, পাঞ্চাল, বিনি — কেউই ছাপ ফেলতে পারেননি। এরপর মিঠুনের ঝোড়ো ১৬ বলে ৫০ এবং অধিনায়ক কার্তিকের অপরাজিত ১৪ বলে ৪২ রানে ভর করে ১০৮ রানে পৌঁছয় ভারত। কিন্তু লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৫.৫ ওভারেই জয় ছিনিয়ে নেয় আরব আমিরশাহী। খালিদ শাহ (১৪ বলে ৫০) ও শাঘির খান (১১ বলে ৩১) ভারতের বোলিংকে ধুলোয় মিশিয়ে দেন। ম্যাচসেরা নীলাংশ কেশওয়ানি (২ উইকেট, ১১ রান)।
দিনের শেষ ম্যাচে নেপালের বিরুদ্ধেও মুখ থুবড়ে পড়ে ভারত। নেপালের ব্যাটারদের সামনে কার্যত অসহায় ভারতের বোলাররা— ৬ ওভারে কোনও উইকেট না তুলে ১৩৭ রান দেয় তারা। জবাবে মাত্র ৩ ওভারেই ৪৫ রানে গুটিয়ে যায় ভারতীয় ইনিংস। ব্যর্থ গোটা ব্যাটিং অর্ডার। নেপালের রশিদ খান ঝলসে ওঠেন— ১৭ বলে ৫৫ রান ও ৭ রানে ৩ উইকেট!
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দাপুটে জয়ের পর এমন হারের হ্যাটট্রিকে হতাশ সমর্থকরা। শনিবারের ব্যর্থতায় পয়েন্ট টেবিলে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ল দীনেশ কার্তিকের ভারতীয় দল।







