কলকাতা, ৯ ডিসেম্বর: এসএলএসটি চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের ১০০০তম দিনে ধর্মতলায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে এক মহিলা চাকরিপ্রার্থী তাঁর মাথা মুড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি আবেদন করেন, অবিলম্বে তাঁদের মতো চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হোক। তাঁদের কথা শুনুন রাজ্য সরকার।
এই ঘটনার পরই ওই মঞ্চে উপস্থিত হন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তাঁর উপস্থিতিতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। চাকরিপ্রার্থী, বিরোধী নেতৃত্ব এবং পুলিশের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। বেশ কিছুক্ষণ কুণালকে ঘিরে বিক্ষোভ চলে।
এরপর কুণাল চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ”আলোচনা থেকেই সমাধানের পথ আসে। আন্দোলন তো পালিয়ে যাচ্ছে না। গণতান্ত্রিক দেশে আন্দোলন করার অধিকার সবার রয়েছে।”
কুণাল জানান, তাঁদের দাবিদাওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু অবহিত। এ নিয়ে আলোচনার পথ খোলা আছে। আগামী সোমবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।
চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ কুণালের উপস্থিতি এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলার পর খুশি হয়েছেন। তাঁরা আশা করেন, এবার দ্রুতই তাঁদের সমস্যার সমাধান হবে।
কুণাল বলেন, ”কোনও একটি জটিলতার জন্য এই চাকরিপ্রার্থীদের চাকরি আটকে আছে। আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন। মুখ্যমন্ত্রী থেকে শিক্ষামন্ত্রী, সবাই চান আশু সমাধান। এর আগে অভিষেক (বন্দ্যোপাধ্যায়) তো বৈঠক করে বলটাকে রোল করে দিয়েছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, ”রাসমণি চুল বিসর্জন দিচ্ছেন, তখন মনে হয়েছে অফিসে কথা না বলে ওঁদের সঙ্গে এসে দেখা করে যাই।”
রাসমণির কথা
মাথা মুড়িয়ে প্রতিবাদ করা রাসমণি বলেন, ”আমার ছেলেকে কোলে নিয়ে এতদিন ধরে আন্দোলন করছি। কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না। তাই আজ চুল বিসর্জন দিয়েছি। আমি চাই, আমাদের দ্রুত নিয়োগ হোক।”
তিনি আরও বলেন, ”আমাদের মাথা মুড়িয়ে দেওয়ার জন্য কেউ আমাকে বাধ্য করেনি। আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি চাই, আমার মতো আর কোনো চাকরিপ্রার্থীর এই অবস্থার সম্মুখীন না হোক।”







