নদী মাতৃক বাংলার জনজীবন নদীর সাথেই ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। তাইতো বিভিন্ন নদী প্রান্তেই গড়ে উঠেছিল সভ্যতা। নদী প্রবাহের মতো অনন্তকাল ধরে বয়ে চলেছে বাংলার অর্থনীতি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, রীতি, বিশ্বাস-সবকিছু। শুধু নদী তো একা নয়, খাল, বিল, জলাশয়, জঙ্গল, বেলাভূমি, পলি, জলজ জীব বৈচিত্র্য-সবই তার প্রবাহের অঙ্গ, তার বৃহত্তর পরিবার ভুক্ত। নদীর নিজস্ব বাস্তুতন্ত্রের সাথে সাথে তার দু’ধারের বাস্তু-তন্ত্রেরও নিয়ামক শক্তি। যদিও তথ্য গবেষণা বলছে, পতিত পাবনী গঙ্গা আজ জল-পলির প্রবাহ বাঁধ- ব্যারেজের শৃঙ্খলে আবদ্ধ, বিশ্বের অন্যতম দূষিত নদী। নদী ব্যবহারের বিকৃত ধারনা ও পুঁজির স্বার্থ চরিতার্থ করার পরিকল্পিত আকুল প্রচেষ্টা দিন দিন সর্বনাশের পথ প্রশস্ত করছে।
এমনই এক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে কায়াকিং মূলত একটি ওয়াটার স্পোর্টস হলেও সেই স্পোর্টসকেই পরিবেশ ভাবনার একটা মাধ্যম হিসেবেই নিয়ে যেতে সুদেষ্ণা পাল একক ভাবে কায়াকিং করছেন গঙ্গাপথে। তবে এ বিষয়ে তাকে সহযোগিতা করছেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন পরিবেশকর্মী এবং বিজ্ঞানকর্মীরা। নদীয়ার শান্তিপুরে আজ একাদশ তম দিনে তিনি এসে পৌঁছান শান্তিপুর বড়বাজার ঘাটে সেখানেই শান্তিপুর পরিবেশ ভাবনার পক্ষ থেকে তাকে সম্মান জানানো এবং সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
তিনি এককভাবে কাটিং করলেও তার সাথে একটি বড় নৌকাতে সূচনা থেকে সমাপ্তি পর্যন্ত কর্মসূচি আহ্বায়ক সঞ্জয় দাস সহ পাঁচ প্রতিনিধির দল সদা সর্বদা তার খোঁজখবর রেখে চলেছেন। তিনি বলেন ,সমাজ জীবনে বোঝা দরকার প্রায় সমস্ত এডভেঞ্চার স্পোর্টসই প্রকৃতি নির্ভর ও তরুণ প্রজন্ম এতে আকর্ষিত হয়ে যুক্ত হয়। তাদের পরিবেশের প্রতি ভালবাসা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা একান্ত জরুরী। তাই বিগত ২৮শে নভেম্বর থেকে ১২ই ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের আহিরণ ঘাট থেকে কলকাতার প্রিন্সেপ ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৪০০ কিমি একক কায়াকিং এর আয়োজন করা হয়েছে। এটি একটি ‘একক অভিযান’ হলেও তা আসলে ব্যাক্তি একজনের অভিযান নয়, সম্মিলিত ভাবে বৃহত্তর পরিসরে সমষ্টিগত দায়িত্ব পালনের জন্য বৃত্তটি বড় করার এক ভিন্ন প্রচেষ্টা।
এই দীর্ঘ প্রায় চারশো কিলোমিটার নদী যাত্রাপথে নদী তীরবর্তী এলাকার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, সামাজিক সংগঠন, এলাকার নদীর ওপর নির্ভরশীল সম্প্রদায় সহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে নদী এবং নদী তীরবর্তী পরিবেশের বিভিন্ন বিষয়, জীবন- জীবিকার সমস্যা, গাঙ্গেয় শুশুক সহ জলজ জীব বৈচিত্র্য, শাখা ও উপনদী, খাল ইত্যাদি নিয়ে মতের আদান প্রদান করা হবে যেমন, ঠিক তেমন তথ্য সংগ্রহ করা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নথিবদ্ধ করার চেষ্টা করা হবে। যাতে করে পরবর্তী সময়ে বিষয়গুলি নিয়ে ধারাবাহিক চেষ্টায় গঠনমূলক কাজের ইতিবাচক পদক্ষেপ করা সম্ভবপর হয়।







