ডিপফেক, বিকৃত তথ্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্র। এই ধরনের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে মেটার অ্যালগরিদমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি, ভবিষ্যতে কীভাবে এই সমস্যার মোকাবিলা করা হবে, তার একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের খবর।
কেন্দ্র ও মেটা কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর প্রযুক্তি সংস্থাটিকে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল অ্যালগরিদম ব্যবস্থায় পরিবর্তন। ডিপফেক, ভুয়ো খবর এবং পরিকল্পিত অপপ্রচার দ্রুত শনাক্ত করার জন্য নিজেদের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে বলা হয়েছে মেটাকে।
পাশাপাশি দ্রুত পদক্ষেপ করার পাশাপাশি তথ্যের স্থানীয়করণের উপরও জোর দিয়েছে কেন্দ্র। সরকারি বা অনুমোদিত কোনও সংস্থা কোনও কনটেন্টকে আপত্তিকর বা বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করলে দ্রুত তা সরিয়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে ভারতে কার্যকর ‘ডেটা লোকালাইজেশন’ সংক্রান্ত নিয়মও কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
বিকৃত ছবি এবং ডিপফেক কনটেন্ট শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকারের ‘কুইক রেসপন্স টিম’-এর সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে মেটার প্রযুক্তিগত দলের পক্ষ থেকে তাদের বর্তমান কনটেন্ট ফিল্টারিং ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করা হয়। পাশাপাশি, সমস্যা মোকাবিলায় আরও উন্নত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
তবে কেন্দ্রের নজরদারি এখানেই শেষ হচ্ছে না। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে থাকা মধ্যস্থতাকারী সংক্রান্ত নিয়ম মেটা যথাযথভাবে পালন করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যে পাওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে সংস্থাটির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতও চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মেটার বিরুদ্ধে কেন্দ্রের এই কঠোর অবস্থানের পিছনে রয়েছে সাম্প্রতিক একটি ঘটনা। দেশের তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপের বার্তা ছিল সেই ভিডিওতে। কিন্তু পরে সেটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেয় মেটা।
পরবর্তীতে মেটার তরফে জানানো হয়, প্রযুক্তিগত বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই পোস্টটি সরানো হয়েছিল। ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে পরে ভিডিওটি পুনরায় ফিরিয়েও দেওয়া হয়। কিন্তু মেটার এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। বিষয়টিকে ‘অপর্যাপ্ত’ এবং সন্তোষজনক নয় বলেই মনে করা হয়েছে।
এর পরেই মেটার শীর্ষ কর্তাদের তলব করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আরও কড়া নজরদারি চালানোর বার্তাও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের উদ্বেগ পুরোপুরি না মেটা পর্যন্ত মেটার কার্যকলাপের উপর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।







