অফবিট

তবে কি এই মাছই মানুষের পূর্বপুরুষ? জানুন বিজ্ঞানীদের মতামত

এতদিনে মানুষ জেনে এসেছে তাদের পূর্বপুরুষ আসলে বানর। কিন্তু এক শতাব্দীরও আগে পাওয়া একটি জীবাশ্ম ইতিহাস বদলে দিতে পারে বলে মনে করছে বিজ্ঞানীরা।
১০০ বছর আগে একটি জীবাশ্ম স্কটিশ কোয়ারি থেকে আবিষ্কার করা হয়। এই জীবাশ্মটি দেখতে একটি দাঁত ভাঙা ইলের ( EAL) মতো। বিজ্ঞানীরা এই জীবাশ্মের নাম দেন PALAEOSPONDYLUS GUNNI।

গবেষকরা বলেছেন এই রহস্যময় মাছটি আমাদের প্রাচীন পূর্ব পুরুষদের মধ্যে একটি হতে পারে।
টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবাশ্মবিদ তাতসুয়া হিরাসাওয়া জানান, এই জীবাশ্মটি নিয়ে রহস্য তৈরী হওয়ার দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটির আকার মাত্র ২.৪ ইঞ্চি। দ্বিতীয়ত, জীবাশ্মটির আকার সংকুচিত ।
এই গবেষণার আগে বিজ্ঞানীরা জানতেন, জীবাশ্মটি মধ্য ডেভোনিয়ান যুগে পাওয়া গিয়েছিল। এই মাছের পাখনা থাকলেও হাত, পা ছিলো না। এছাড়া এই মাছের দাঁতও ছিলো না। কিন্তু এই সময় বেশিরভাগ মেরুদণ্ডী প্রাণীদের দাঁত পাওয়া যেত।

২০০৪ সালে আমেরিকান বিজ্ঞানীরা রিপোর্ট করেছিলেন যে, এটি একটি প্রাচীন মাছ। ২০১৬ সালে জুয়োলজিক্যাল লেটারস জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, এটি HAG FISH জাতীয় মাছের সোম গোত্রীয়। এর ঠিক এক বছর পরে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির একটি দল জানায়, এটি এখনকার হাঙরের মত একটি CARTILAGINOUS মাছ।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, এই মাছটি ১৮৯০ সালে আবিষ্কৃত হয়েছে। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা এই মাছটির মধ্যে ক্র্যানিয়াল বৈশিষ্ট্য পেয়েছে। যার জন্য গবেষকরা PALAEOSPONDYLUS – কে TETRAPODOMORPHS – এর গ্রুপে রেখেছে। বিজ্ঞানীরা এও জানায় এটি সমস্ত TETRAPODOMORPHS এর পূর্বপুরুষ হতে পারে। কিন্তু সমস্ত TETRAPODOMORPHS – এর সাধারণত দাঁত থাকে। তবে PALAEOSPONDYLUS এর তা ছিল না। তাই বিজ্ঞানীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা এই জীবাশ্ম নিয়ে এখনও গবেষণা করে চলেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.