জলের কল খুললেই বের হচ্ছে থোক থোক কেঁচো। জলের বালতির তলায় থিতিয়ে পড়ে কেঁচো, পোকামাকড়। তবু সেই জলই ব্যবহার করতে হচ্ছে সুন্দর বনের বহু গ্রাম। কেও আবার সেই জল কাপড়ে ছেঁকেও খাছেও। জল সংকটে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা। এলাকার প্রায় ১৫-২০ টি গ্রাম এই জলের সমস্যার সম্মুখীন।
বসিরহাটের সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের হিঙ্গলগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের মামুদপুর, সাহাপুর, চার নম্বর ও ক্যাওড়াখালি সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে এই জলের সমস্যার মুখে পড়ে আছে গ্রামবাসী। এলাকার সরকারী পাইপলাইন দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করার ফলে এই সমস্যায় ভুগছে তারা।
পানীয় জলের সমস্যা সব চেয়ে বেশি। কেও কেও এই জলই সাদা কাপড়ে ছেঁকে খাচ্ছে, ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেকেই। আবার কেও কেও রান্নার কাজে ব্যাবহার করছে। এমনকি সময় মোট জলও পাইনা তারা। জল আসার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। কোনো দিন জল আসে আবার কোনো দিন জল আসে না।
সুন্দরবনের স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান,’দেখছি চোখের সামনে, জলে কেঁচো কিলবিল করছে। অনেককে দেখছে কাপড় দিয়ে ছেঁকে সেই জলই খেয়ে নিচ্ছেন। রান্নাবান্নার কাজেও ব্যবহার করছেন। পাশের গ্রাম, তার পাশের গ্রাম থেকে যে জল আনব, সব তো একই অবস্থা প্রায়। পঞ্চায়েতকে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। বহুবার পঞ্চায়েতকে জানানো হয়েছে কিন্তু পঞ্চায়েত কোনওরকম ব্যবস্থা করছে না।’
এই বিষয়ে হিঙ্গলগঞ্জ পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান লতিফ গাজির কথা বললে তিনি জানান জলে যে পোকা আসছে এই অভিযোগ তাঁরা পেয়েছেন। তিনি আরো জানান, পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে সভাধিপতি এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরে এই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন তারা।
খুবই প্রতন্ত এলাকা সুন্দরবন। অধিকাংশ মানুষই খেটে খায়। তাদের পক্ষে জল কিনে ব্যবহার করা ভাবনার অতীত। সেখানে জলের এই সংকট ভীষন বিপদে ফেলেছে মানুষকে। অনেকে বহুদূর থেকে পানীয় জল বয়ে নিয়ে আসছে। কিন্তু এইভাবে কত দিন চলবে! পানীয় জলের সমস্যা সমাধানের আসায় সুন্দরবন এলাকার বিস্তীর্ণ মানুষ।







