বিদেশ

ভারতকে পূর্ব দিক থেকেও ঘিরতে চিনের নতুন কৌশল! CPEC-এর পর এবার CMBC করিডর ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

ভারতের পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর (CPEC) গড়ে তোলার পর এবার পূর্ব সীমান্তেও নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির পথে হাঁটছে বেজিং। প্রায় এক দশক ধরে স্থগিত থাকা চিন-মায়ানমার-বাংলাদেশ করিডর (CMBC) প্রকল্পকে নতুন করে সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে শি জিনপিং প্রশাসন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বঙ্গোপসাগরে চিনের কৌশলগত ও বাণিজ্যিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে ভারতের পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তাতেও।

সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেজিং সফরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে এই করিডর অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল। ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, ভারত আপত্তি জানানোয় চার দেশের BCIM করিডর এগোয়নি। তাই এবার ভারতকে বাদ দিয়েই CMBC মডেলে এগোতে চাইছে চিন।

প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী, করিডরটি চিনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং থেকে শুরু হয়ে মান্দালয়, ইয়াঙ্গন ও কিয়াউকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর হয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজার, চট্টগ্রাম এবং ভবিষ্যতে মংলা বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এতে মালাক্কা প্রণালী এড়িয়ে সরাসরি বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের বিকল্প পথ পাবে বেজিং।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমে CPEC এবং পূর্বে CMBC—এই দুই করিডরের মাধ্যমে ভারতকে কৌশলগতভাবে চাপে রাখার পরিকল্পনাই চিনের বৃহত্তর ‘স্ট্রিং অফ পার্লস’ নীতির অংশ।

তবে এই প্রকল্পের সামনে বড় দুটি বাধাও রয়েছে। প্রথমত, মায়ানমারের রাখাইন-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে অবকাঠামো নির্মাণ অত্যন্ত অনিশ্চিত। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাখাইনে স্থিতিশীলতা না ফিরলে মায়ানমার হয়ে কোনো স্থল করিডরে ঢাকা সম্মতি দেবে না। ফলে বেজিংয়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা আপাতত কূটনৈতিক আলোচনা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.