রাজ্য

কৃষ্ণনগরে ভোট প্রচারে গিয়ে মোদি সরকারকে চাছা ছোলা আক্রমণ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো

সম্প্রতি মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সেই কারণে লোকসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করতে দেরি হলো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্র থেকে তিনি ২৪এর নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন। রবিবার জনসভা থেকে বিরোধীদের কড়া আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজনৈতিক ময়দানে, পান থেকে চুন খোশলে কেউ কাউকে কটাক্ষ করতে ছারেনা। কিছুদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাথায় গরুতর চোট পেয়েছিলেন। সেই আঘাত নিয়েও কটাক্ষ করেছেন বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। তবে এবার কৃষ্ণনগরের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মহুয়া মিত্রের সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী লোকসভা ভোটের প্রচার শুরু করলেন। ছুটির দিন সকালে সেখানে জনসভা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

গত বেশ কিছুদিন ধরেই বারংবার ইডি-সিবিয়াই হানা দিয়েছে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল প্রার্থীর একাধিক বাড়িতে। এমনকি তৃণমূল প্রার্থীকে তলব করেছিল এই ইউনিভার্সিটি এজেন্সি। তাই জন্য মুখ্যমন্ত্রী জনসভা থেকে এই তদন্তকারীর সংস্থাগুলিকে পক্ষপাতিত্তের অভিযোগ তুলে মোদি সরকারকে কড়া আক্রমণ করলেন। পাশাপাশি জনসভা থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন বঙ্গে কোনরকম ইন্ডিয়া জোট হয়নি। এমনকি নাম না করে সন্দেশখালি বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্রকে উদ্দেশ্য করে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এছাড়া সিএএর আতঙ্কে আত্মহত্যা করছে অনেক মানুষ। এমনকি গত ২ দিন আগে মণিপুরে সিএএর কারণে আত্মহত্যা করেছে আরো ২ জন। সেই নিয়ে চাছা ছোলা আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় সরকারকে। পাশাপাশি নাম না করে সিপিএম-কংগ্রেস ও আইএসএফকে একই সারিতে রেখে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি ১০০ দিনের কাজ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বিনা পয়সার রেশনের মতো উন্নয়নের বিষয়ের সামনে রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী।

জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “বাংলায় জোট হয়নি, ঘোট হয়েছে। সিপিএম-কংগ্রেসকে ভোট দেওয়া মানে বিজেপিকে ভোট দেওয়া। কোথাও দেখেছেন যে বিয়ে করে সেই পুরোহিত! এটা দেশের ভোট। অথচ ইলেকশন করছে বিজেপি। নিজেদের জেতাবার জন্য সব লোক ঠিক করেছে বিজেপি। তবু বলছি, বাংলায় গো হারান হারাব। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সব প্রকল্প বন্ধ করে দেবে। নিশ্চয়ই বাংলার সর্বনাশ কেউ চান না। ভরসা আছে, বিশ্বাস আছে? তাহলে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। ওদের মিথ্যের প্ররোচনায় পা দেবেন না। সবাইকে বলব, প্রার্থনা করুন, যেন দেশ ভাল থাকে। দেশ ভাল নেই। কারণ, একটা জুমলা সরকার। নির্বাচন চালু হয়ে যাওয়ার পরও আমাদের নেতাদের বাড়িতে সিবিআই, এনআইএ, ইডি পাঠানো হচ্ছে। দেখলেন না মহুয়ার ওপর কী অত্যাচারটাই না করল। ওর অপরাধ, ও সংসদে বিজেপির বিরুদ্ধে মুখ খুলতো। লোকসভা থেকে তাড়িয়েও ক্ষান্ত হয়নি। এখনও বাড়িতে ইডি, সিবিআই পাঠাচ্ছে। আপনি রাজ মাতা বলে যাকে ডাকেন, তার পূর্বপুরুষরা লর্ড ক্লাইভের পক্ষে ছিল। আমরা মীরজাফরদের সমর্থন করি না।যাকে প্রার্থী করেছেন সে তো রাজ্যের স্বাস্থ্য সাথী এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা গ্রহণ করেন!সিএএ মাথা। ল্য়াজা হল এনআরসি। সিএএ করলেই এনআরসিতে পড়ে যাবেন। বিজেপি নেতারা কেন সিএএ-তে আবেদন জানাচ্ছেন না? করলেই বিদেশি হয়ে যাবেন। তাই বলছি, বাংলায় সিএএ হতে দেব না। কোনও প্রশ্নেই বিজেপির সঙ্গে কম্প্রোমাইজ নয়।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.