ভারতীয় ক্রিকেটে আবারও নতুন বিতর্কের সূচনা। মহেন্দ্র সিং ধোনির পর যিনি ভারতীয় দলের নেতৃত্বে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছিলেন, সেই রোহিত শর্মাকে হঠাৎ করেই অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে রীতিমতো তোলপাড় ক্রিকেটমহল।
দুরন্ত ফর্মে থাকা সত্ত্বেও ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপের আগে রোহিতের হাত থেকে অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী। তিনি সরাসরি বিসিসিআই-এর (BCCI) সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন —
“রোহিত শর্মা এখনও ফিট, এবং সবার থেকে ভালো পারফর্ম করছেন। ২০২৭ বিশ্বকাপে তিনিই দলকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে যেতে পারতেন। অধিনায়ক হিসেবে তার সেই মঞ্চে থাকা উচিত ছিল। ভারতীয় ক্রিকেট দলের সবচেয়ে খাঁটি ব্যক্তির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।”
রোহিত শর্মার নেতৃত্বেই ভারত ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছিল, এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালেও খেলেছিল। ২০২৪ সালে তার হাত ধরেই আসে ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফি। সেই সাফল্যের পর তিনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নেন, তবে টেস্ট ও ওয়ানডে চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
কিন্তু সমস্ত অনুমান উড়িয়ে দিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে নতুন অধিনায়ক হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে শুভমান গিলের। জানা যাচ্ছে, বিসিসিআই ভবিষ্যতের কথা ভেবেই গিলকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সামনে আনছে।
এই সিদ্ধান্তে বহু ক্রিকেটপ্রেমীই রাজনৈতিক চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছেন। ক্রিকেটের অন্দরমহলের সেই রাজনীতি নিয়ে গর্জে উঠেছেন সৌরভ গাঙ্গুলী, যিনি নিজেও একসময় একই ধরনের ‘ক্রিকেট পলিটিক্স’-এর শিকার হয়েছিলেন।
উল্লেখযোগ্য, রোহিত শর্মা এখনও পর্যন্ত ২৭৩টি ওয়ানডে ম্যাচে করেছেন ১১,১৬৮ রান, এবং একমাত্র ব্যাটার যিনি তিনটি দ্বিশতরানের মালিক।
ভারতীয় ক্রিকেটে এক যুগের ‘হিটম্যান’কে সরিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করছে বিসিসিআই — কিন্তু এই সিদ্ধান্তে সৌরভ গাঙ্গুলীর তীব্র ক্ষোভ নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে,
“ক্রিকেটে ফর্ম নয়, রাজনীতিই কি এখন নেতৃত্ব নির্ধারণ করে?”







