শেষ দফার নির্বাচনজুড়ে ‘অসন্তোষ’ অব্যাহত। বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের সন্দেশখালি বিধানসভার বেড়মজুর অঞ্চলের ১৪৭ ও ১৪৮ নম্বর বুথে রাতভর পুলিসি তাণ্ডবের অভিযোগ বিজেপির। তল্লাশির নামে তাণ্ডব চালিয়ে ৬ জন বিজেপিকর্মীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সামনাসামনি হয়ে দিলীপ ঘোষ জানান, ‘এর আগের ফেজগুলিতেও পুলিসকে দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হয়েছিল। আমাদের কিছু আমাদের নেতা-কর্মীকে অ্যারেস্ট করা হয়েছিল। কোথাও কোথাও সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাবার চেষ্টা করা হয়েছিল,এটা বাড়ছে, আমি বলেছিলাম, যত ইলেকশন এগোবে, যত টিএমসি হারবে,হিংসা,পুলিসি অত্যাচার বাড়বে।সেগুলোই দেখা যাচ্ছে কিন্তু সাধারণ মানুষ মন ঠিক করে নিয়েছেন তারা ভোট দেবেন, ঠিক জায়গাতেই দেবেন, এটাই টিএমসির ভয়। তাই তারা শেষ চেষ্টাটা করছে। কলকাতার আশপাশ যেটা ওদের কোর এলাকা সেটা বাঁচাবার, আমার মনে হয় এবারে কেল্লাতে ধ্বস নেমে যাবে।’
বসিরহাটের বিজেপিপ্রার্থী রেখা পাত্র প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, ‘আমাদের বর্ধমানেও বহু জায়গায় কয়েক বছর পরে লোকেরা নিজের মতো করে ভোট দিয়েছেন। সারা পশ্চিমবাংলায় এটা হয়েছে। বসিরহাট থেকে আরম্ভ করে মথুরাপুর এবং কলকাতার সব জায়গায় এটা হবে। সাধারণ মানুষ ভোট দেবেন এবং নিজের ইচ্ছামতো ভোট দেবেন, পরিবর্তনের ভোট দেবেন, যাঁরা ওখানে গড় বানিয়ে রেখেছেম, ঘর আমরা তুলে দিয়েছি, ভেঙে দিয়েছি। এবার কলকাতার আশপাশের এই গড়কেও আমরা ভাঙব।’
মোদীর ধ্যান নিয়ে বিতর্ক বর্তমান। তির্যক মন্তব্যে সামিল বিরোধীরা, কমিশনে নালিশ কংগ্রেসের। এই ব্যাপারে দিলীপ জানান, ‘সবকিছুতে নালিশ। মোদীজি কেন পরোটা খেলেন, তা নিয়ে নালিশ। মোদীজি কেন ধোকলা খেলেন, সেটা নিয়ে নালিশ। যদি বাংলায় এসে এখানকার খাবার খান, সেটাতেও নালিশ। সব ব্যাপারেই নালিশ। তো, নালিশ করবেন, না রাজনীতি করবেন? পাবলিকের কাছে যান না, সব সময় নির্বাচন কমিশন না হলে আদালত– এটা লড়াই করার জায়গা নয়। লড়াই করার জায়গা হচ্ছে যেটা সাধারণ মানুষের সমাজ। যে যেখানে থাকেন, সেখানে লড়া উচিত। সে লড়াই শেষ হয়ে গিয়েছে। মোদিজি সেই লড়াই জিতে নিয়েছেন। তো, দেখা যাক! এইসব কমপ্লেনের কোনও মানেই হয় না। ভোট শেষ হয়ে গিয়েছে। নরেন্দ্র মোদী কন্যাকুমারীতে গিয়েছেন, আমাদের লোকেরাই সেই বিশ্ববিখ্যাত সৌধ তৈরি করেছেন। যেটা ভারতের কাছে গৌরব। বিবেকানন্দ আড়াই দিন যেখানে ধ্যান করেছিলেন, সেটা আমাদের কাছে স্বাভিমানের প্রতীক। সেখানে মোদীজি গিয়ে দুমাস,তিনমাস, চারমাস প্রচার করেছেন, তাঁর নিজস্ব শক্তি সঞ্চয় করার জন্য, তপস্যা করার জন্য গিয়েছেন, তাতেও কষ্ট হচ্ছে। আপনারা তো কোনও দিন যান না, ভারতীয় সংস্কৃতিকে সম্মান করেন না, আপনাদের কান্নাকাটি করে কী হবে? আমার মনে হয়, এটা শেষ প্রয়াস করছেন ওঁরা। এই নির্বাচনে বিরোধীদের তো শক্তিপরীক্ষার সুযোগ থাকবে না, তাদের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠে যাবে।’







