বিশ্বজয়ের আনন্দ থেকে ম্লান বাস্তবের তেতো স্বাদ—এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় ক্রিকেটের হিটম্যান রোহিত শর্মার যাত্রাপথে যেন পাল্টে গেল সবকিছু। একদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের উল্লাস, অন্যদিকে টেস্ট ক্রিকেট থেকে নীরব বিদায়। কেরিয়ারের এমন মোড় কি প্রাপ্য ছিল রোহিতের?
২০২৪ সালের জুনে আসমুদ্র হিমাচল আনন্দে ফেটে পড়েছিল রোহিতের নেতৃত্বে ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় দেখে। পরের বছরই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ঘরে তোলেন তিনি। কিন্তু সেই রোহিতকেই বিদায় নিতে হল টেস্ট ক্রিকেট থেকে—সমালোচনার চাপ, ব্যর্থতার গ্লানি ও দলীয় সমীকরণে পড়ে যেন ‘হিটম্যান’-এর বিদায়টা হল অকালপ্রয়াণের মতো।
আইপিএলের মাঝেই একটি বিজ্ঞাপনে ঝুঁকি নেওয়ার পরামর্শ দিলেও বাস্তবে রোহিত ঝুঁকি নেননি। ইংল্যান্ড সিরিজে অধিনায়কত্ব হারানোর আগেই নিজে সরে দাঁড়ালেন। একসময়ের সাহসী আগ্রাসনের মুখে দেখা গেল হতাশা, আত্মসমালোচনা আর চাপের ভারে নুয়ে পড়া এক অধিনায়ককে।
টেস্টে তাঁর পরিসংখ্যানও বলার মতো—৪৩০১ রান, ১০টি শতরান, কিন্তু সাম্প্রতিক ব্যর্থতাই যেন ছাপিয়ে গেল সাফল্যকে। অস্ট্রেলিয়া সফরে পরপর ব্যর্থতা, দলগত চাপ এবং কোচ গৌতম গম্ভীরের শীতলতা বুঝিয়ে দিল, রোহিতের সময় শেষ। সিডনিতে খেলেননি, নেতৃত্ব হারালেন, বুঝে গেলেন—ইতি টানার সময় এসে গেছে।
অথচ এক সময় যিনি প্রতিভা ও পরিশ্রমে ভারতীয় দলে জায়গা তৈরি করেছিলেন, যাঁর নেতৃত্বে ভারত নতুন আক্রমণাত্মক ক্রিকেট শিখেছিল, সেই রোহিতই বিদায় নিলেন মাথা নিচু করে। যে মাঠে জাতীয় পতাকা পুঁতে দিয়েছিলেন, সেই মাঠেই হারালেন আত্মবিশ্বাস।
অধিনায়ক রোহিত ছিলেন সতীর্থদের ‘বড় দাদা’। কঠোরতা আর হাসির মিশেলে তিনি হয়ে উঠেছিলেন দলের মেরুদণ্ড। তাঁর মাঠের কথাগুলো ভাইরাল হত, তাঁর পুল শট ছিল বোলারদের দুঃস্বপ্ন। অথচ এমন একজন ক্রিকেটারের অবসরের ঘোষণা এল একেবারে নীরবে, বিতর্ক আর সমালোচনার মাঝে।
রোহিত শর্মা শুধুই একজন ক্রিকেটার ছিলেন না, তিনি ছিলেন ক্রিকেটভক্তদের আবেগের প্রতীক। সেই আবেগের ছন্দপতন ঘটল এবার। হয়তো ভবিষ্যৎ তাঁকে বিচার করবে নতুন আলোয়। তবে বিদায়ের সময়টা ছিল নিঃসন্দেহে বিষাদের।







