লোকসভা নির্বাচন শেষ হতে না হতেই নির্বাচন কমিশনের তরফে বিধানসভা উপনির্বাচনের নির্ঘন্টু প্রকাশ করা হয়েছে। মানিকতলা সহ রাজ্যের চার বিধানসভা কেন্দ্রে উপ নির্বাচন ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ১০ জুলাই মানিকতলা, বাগদা, রায়গঞ্জ এবং রানাঘাট দক্ষিণ কেন্দ্রে নির্বাচন। এর মধ্যে সকলের নজর কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মানিকতলা বিধানসভার দিকে।
যদিও মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রে তুলনায় ভালো ফল করেছে তৃণমূল। মানিকতলা বিধানসভার আটটি ওয়ার্ডের মধ্যে ছ’টিতে তৃণমূল ও মাত্র দুটিতে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। একুশের নির্বাচনে মানিকতলা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন সাধন পাণ্ডে। ২০ হাজার ২৩৮ ভোটে বিজেপি প্রার্থী কল্যাণ চৌবে পরাজিত হন। ২০২২-র ফেব্রুয়ারিতে মৃত্যু হয় বিধায়ক সাধন পাণ্ডের।
তারপর থেকে এই কেন্দ্রটি বিধায়কহীন হয়ে পড়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী ৬ মাসের মধ্যে উপনির্বাচনের বিধান থাকলেও, মানিকতলা কেন্দ্রের ক্ষেত্রে তা হয়নি কারণ, গণনায় কারচুপির অভিযোগে ফলাফল বাতিলের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন পরাজিত বিজেপি প্রার্থী কল্যাণ চৌবে। সেই মামলার সম্প্রতি নিষ্পত্তি ঘটায় আদালত উপনির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে ভোট ঘোষণা হতেই মানিকতলার তৃণমূল প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। যদিও এ নিয়ে তৃণমূলের তরফে এখনও কোনও ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। এই কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে সাধন পাণ্ডের মেয়ে শ্রেয়া পাণ্ডে। তবে এ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ সাধন-কন্যা। তিনি বলেন, “এটা আমি বলতে পারব না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিদ্ধান্ত নেবেন।”
এর আগে শ্রেয়া এই কেন্দ্রের আহ্বায়ক করা হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাবা সাধন পাণ্ডে মারা যাওয়ার পর থেকেই এলাকায় প্রভাব বাড়তে থাকে শ্রেয়ার। নিয়ম করে বিভিন্ন জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছিলেন তিনি। তৃণমূলের সভাতেও দেখা যেত সাধন-কন্যাকে। ফলে এই কেন্দ্রে শ্রেয়াকে তৃণমূলের প্রার্থী করার সম্ভাবনা বেশি। তৃণমূলের প্রাক্তন এক মুখপাত্রও প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
একটা সময় বামেদের দুর্গ ছিল মানিকতলা। শ্যামল চক্রবর্তী এই কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হন। ২০১১ সাল থেকে টানা তিনবার মানিকতলার বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন সাধন পাণ্ডে।







