জেলা

১০০ দিনের কাজের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কাটোয়ায় গ্রেফতার তৃণমূল নেতা, রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্ব বর্ধমান জেলা সাধারণ সম্পাদক দিগন্ত পাল-কে গ্রেফতার করেছে কাটোয়া থানার পুলিশ। শনিবার রাতে কাটোয়া স্টেশন বাজার এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মামলায় আরও একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে। অভিযোগপত্রে তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, জেলা নেতা বিশ্বনাথ সাহা-সহ মোট ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী ওমর আলি শেখের দাবি, তাঁর জব কার্ডের নথি ব্যবহার করে ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল এবং সেই মাধ্যমে ১০০ দিনের কাজের টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে প্ররোচনার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

অন্যদিকে, অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, একই ঘটনায় আগের অভিযোগে কোনও তৃণমূল নেতার নাম ছিল না। আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখা উচিত।

এদিকে জেলার রাজনীতিতে অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে আরেকটি ঘটনা। পূর্বস্থলীতে ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বাড়ি থেকে ত্রিপল ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি অভিযানও চালানো হয়।

অপরদিকে, দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মৃন্ময় দাস-কেও তোলাবাজি, হুমকি এবং মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাগেরবাজার এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ।

পরপর একাধিক গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা দুর্নীতির অভিযোগে সরব হলেও, তৃণমূলের দাবি— রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাদের নেতাদের নিশানা করা হচ্ছে। তদন্ত এগোলে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.