রাজ্য প্রাণী বাঘরোল নিয়ে সচেতনতায় যে কাজ হয়েছে তার নজির মিলল হাওড়া বাঙালপুরে। উল্লেখ্য বাঙালপুরের কালিকাপুরে গতবছরই এক বাঘরোলকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল আর তারপরেই ওই এলাকায় সচেতনতা গড়ে তোলা সিদ্ধান্ত নেন পরিবেশকর্মীরা। সেই সিদ্ধান্তের যে কাজ হয়েছে তার নজির মিলল এবার। জানা গিয়েছে বাগনান বাঙালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ওলানপাড়া গ্রামে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় একটি বাঘরোল ছানা তার মায়ের সাথে যাবার সময় পাঁচিল থেকে পড়ে গিয়ে মায়ের থেকে আলাদা হয়ে যায়। কিছু কুকুর তাড়া করায় ছানাটি লোকালয়ে চলে আসে। স্থানীয় যুবক শেখ শফিকুল ছানাটি তুলে এনে বাপন কোলে কে। বাপন কোলে বাঘরোল টি উদ্ধারের জন্য উদ্যোগ নেন। যেখানে বাঘরোল ছানাটি পাওয়া গিয়েছিল, সেই স্থানে একটি খাঁচায় বাঘরোল শাবক টি রাখা হয় মা বাঘরোলের জন্য। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ কেটে গেলেও মা বাঘরোল আসেনি। ফাঁকা জায়গায় ছানা টিকে ছেড়ে দিলে অন্য শিকারি প্রানী মেরে দিতে পারে, তাই বাঘরোল শাবক টি উদ্ধার করে তাঁরা নিয়ে আসেন। ছানাটি দীর্ঘক্ষণ কিছু খাবার খায়নি, তাই তাকে দুধ খাওয়ানো হয়। সুমন্ত এবং ইমন পরে বন বিভাগ উদ্ধার করে বাঘরোল শাবক টি গড়চুমুক মিনি জু – তে নিয়ে যায়।
বন্যপ্রাণ সংরক্ষণকারী চিত্রক প্রামানিক বলেন, এই বাঙালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ওলানপাড়া গ্রামের কাছেই কালিকাপুর গ্রামে গত তিন বছর আগে তিনটি বাঘরোল কে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষকে আমরা রাজ্য প্রানী বাঘরোল সংরক্ষণের গুরুত্ব বোঝাতে পেরেছি, তাই ওলানপাড়া গ্রামের মানুষ এই শাবক টিকে রক্ষা করতে পেরেছে। এই বছর ই জানুয়ারি মাসে আমরা মায়ের থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া দুটি শাবক বাঘরোল কে ছয় ঘন্টার চেষ্টায় পুনরায় মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু এক্ষেত্রে চেষ্টা করা সত্ত্বেও মা বাঘরোল সারা রাত আসেনি, হয়তো মা বাঘরোল অন্যত্র সরে গেছে। তাই উদ্ধারের প্রয়োজন হলো।







