রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণার পরই প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে বড়সড় রদবদল ঘটাল নির্বাচন কমিশন। ভোট ঘোষণার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্য পুলিশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বদল আনা হয়েছে। অনেকের মতে, নির্বাচনের আগে এত দ্রুত ও বড় প্রশাসনিক পরিবর্তন নজিরবিহীন।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্য পুলিশের ডিজি পদ থেকে সরানো হয়েছে আইপিএস পীযূষ পাণ্ডেকে। তাঁর পরিবর্তে নতুন ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। একইভাবে কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সুপ্রতিম সরকারকে। তাঁর জায়গায় নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আইপিএস অজয় নন্দা।
তবে এই রদবদলের মধ্যে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে কারাগার দফতরের শীর্ষ পদে পরিবর্তন। অন্যান্য ক্ষেত্রে যেখানে নতুন পদে বসানো আধিকারিকদের আগের দায়িত্বে কাকে বসানো হবে তা কমিশন নির্দিষ্ট করে দেয়নি, সেখানে কারাগার দফতরের ক্ষেত্রে সরাসরি নতুন প্রধানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ওই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইপিএস নটরাজন রমেশ বাবুকে।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, নির্বাচন কমিশন সরাসরি এই দফতরের শীর্ষ পদে পরিবর্তন করে স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ শেষবার কলকাতা সফরে এসে কারাগার দফতর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সেই সময় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার Gyanesh Kumar অভিযোগ করেছিলেন, কমিশনের কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে নির্বাচনের সময় কয়েক দিনের জন্য কিছু আসামিকে কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, প্যারোলের নির্ধারিত প্রক্রিয়া ছাড়া ভোটের সময় অভিযুক্তদের বাইরে থাকার অভিযোগ গুরুতর এবং এমন ঘটনা যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে।
কলকাতা সফরের সময় কমিশনের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। মুখ্যসচিব ও পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গেও আলাদা করে আলোচনা হয়। পরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
এরপরই ভোট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একসঙ্গে পাঁচজন শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিককে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে কারাগার দফতরের শীর্ষ পদে সরাসরি পরিবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ থেকে পরিষ্কার বার্তা মিলছে—আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন যাতে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য প্রশাসনিক স্তরে কড়া নজরদারি চালাতে চাইছে কমিশন।







