দাবি আদায়ে পথ অবরোধ ভারতে বহুদিনের পরিচিত প্রতিবাদের ভাষা। কিন্তু তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক এক ঘটনায় সেই প্রতিবাদ যেন নতুন মাত্রা পেল—যেখানে উন্নয়ন নয়, সরাসরি নগদ টাকার দাবিতেই জাতীয় সড়ক অবরোধ করলেন গ্রামবাসীরা।
তামিলনাড়ুর শিল্পনগরী Coimbatore থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে কোত্তুর-পোলাচি জাতীয় সড়কে সোমবার রাতে কয়েকশ গ্রামবাসীর এই অবরোধ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ—আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে আশপাশের গ্রামগুলিতে রাজনৈতিক দলগুলি নগদ টাকা বিলি করলেও, তাদের এলাকাকে সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
গ্রামবাসীদের সরাসরি হুঁশিয়ারি, ২৩ এপ্রিল ভোটের আগে যদি নগদ টাকা না পৌঁছয়, তাহলে তারা ভোট বয়কট করবে। তাদের বক্তব্য, জাতীয় সড়কের ধারে বসবাসের কারণে প্রশাসনিক নজরদারি বেশি থাকায় রাজনৈতিক দলগুলি এখানে টাকা বিলি করতে সাহস পায়নি। এই ‘বৈষম্য’ তারা মেনে নেবেন না বলেই দাবি।
রাজধানী Chennai থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরের এই ঘটনায় সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকে। পুলিশ প্রশাসন বহুবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও অবরোধ তুলতে রাজি হননি বিক্ষোভকারীরা। অবশেষে গভীর রাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়—অবরোধ না তুললে গুরুতর ধারায় মামলা করা হবে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার মুখে পুলিশ ও গ্রামবাসীদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা শুরু হয়। শেষপর্যন্ত ভোররাতে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, যেখানে যেখানে নগদ টাকা বিলির অভিযোগ রয়েছে, সেখানে অভিযান চালিয়ে কালো টাকা উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হবে।
এই ঘটনায় আবার সামনে এসেছে তামিলনাড়ুর নির্বাচনী সংস্কৃতির এক অন্ধকার দিক—ভোটের আগে নগদ টাকা বিলির অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভোটারদের প্রভাবিত করতে মাথাপিছু নগদ অর্থ দেয়। একসময় এই অঙ্ক ছিল প্রায় ৫০০ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি।
এই প্রথা রুখতে Election Commission of India একাধিকবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তল্লাশি, নজরদারি, এমনকি হঠাৎ লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়ে টাকা বিলির মতো কৌশলও নজরে এসেছে। তবুও পুরোপুরি এই প্রবণতা বন্ধ করা যায়নি বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
পোল্লাচি এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষোভও সেই প্রেক্ষাপটেই। তাদের দাবি, অন্য গ্রামে একাধিক দল থেকে টাকা পৌঁছেছে, অথচ তারা ‘বঞ্চিত’। সেই বঞ্চনার প্রতিবাদেই জাতীয় সড়ক অবরোধের পথ বেছে নেন তারা।
২৩ এপ্রিল একদিনেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তার আগে এই ঘটনা শুধু প্রশাসনের জন্যই নয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।







