৯ আগস্ট কলকাতার আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ঘটে যাওয়া তরুণী ডাক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগের ঘটনায় সমগ্র দেশ জুড়ে চলছে প্রতিবাদের ঝড়, বিশেষত কলকাতায়। সেই প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়েছে কলকাতার ফুটবল মহলেও। এক বিরল দৃশ্যে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান এবং মোহামেডান স্পোর্টিং-এর তিনটি বড় ক্লাবের সমর্থকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সল্টলেক স্টেডিয়ামের সামনে একত্রিত হন। আরজিকর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে।
ডুরান্ড কাপের ডার্বি ম্যাচটি বাতিল হওয়া সত্ত্বেও প্রায় এক হাজার সমর্থক স্টেডিয়ামের বাইরে জড়ো হন, পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড হাতে। দুই দলের পতাকা একসঙ্গে ধরে। এক কণ্ঠে স্লোগান দিতে থাকেন তারা, ভিকটিমের পরিবারের জন্য বিচার দাবি করে। বিশাল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল প্রতিবাদস্থলে, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না চলে যায়।
মোহনবাগান অধিনায়ক এবং ভারতীয় জাতীয় দলের ফুটবলার সুবাসিষ বসুও এই প্রতিবাদে অংশ নেন, যা ছিল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বেলেঘাটা কানেক্টরসহ বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা অবরোধ করেন সমর্থকরা, ফলে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বিঘ্ন ঘটে। কিছুক্ষণ পর অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) এর সভাপতি কল্যাণ চৌবে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং ক্ষুব্ধ সমর্থকদের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, “এটা অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। একটি ফুটবল ম্যাচ পর্যন্ত হতে পারছে না এবং এখানে যে পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন হয়েছে, দেখে মনে হচ্ছে যেন একটি দাঙ্গা শুরু হয়েছে।”
সমর্থকদের মধ্যে একজন মোহনবাগান ভক্ত প্রশ্ন তোলেন, “আমরা কি ভিকটিমের জন্য ন্যায়বিচার চাইতে পারি না? ম্যাচ বাতিল হওয়ার কারণ কি?” এই ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ দেশের ক্রীড়ামহলে এক অভূতপূর্ব উদাহরণ তৈরি করেছে।







