পাহাড়ি যুদ্ধক্ষেত্রে ভাঙা চোয়াল নিয়ে লড়াই করা মনোজ কুমার বর্মা এখন কলকাতা পুলিশের নতুন কমিশনার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন এই পুলিশ অফিসারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ লালবাজারের অস্থির পরিবেশ সামলানো। রাজ্য পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের অভ্যন্তরীণ স্তরে বহু কর্মীই মনে করেন, এই সংকটময় মুহূর্তে মনোজ বর্মার মতো দক্ষ অফিসারই প্রয়োজন ছিল।
মনোজ বর্মার পরিচিতি নতুন নয়। মেদিনীপুরের এসপি হিসেবে ২০০৯ সালে তাঁর সাহসী পদক্ষেপগুলো নজর কাড়ে। বাম সরকারের আমলে মাওবাদী দমনে গঠিত স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর অন্যতম প্রধান ছিলেন তিনি। সেই সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেলমন্ত্রী থাকাকালীন মেদিনীপুর কলেজ মাঠে একটি সভার সময় মনোজ বর্মাকে দেখা গিয়েছিল জংলাছাপ উর্দি, কোমরে পিস্তল, কোলে একে-৪৭ রাইফেল নিয়ে। পুলিশের পোশাকের মতোই তাঁর মনোভাব ছিল কঠোর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ।
বিগত কয়েক বছরে রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেছেন মনোজ। উত্তরের পাহাড়ে গুরুং বাহিনীর সাথে তাঁর সংঘর্ষের ঘটনা আজও স্মরণীয়। সেই সংঘর্ষের সময় ভাঙা চোয়াল নিয়েও তিনি পিছিয়ে আসেননি, বরং সামনে থেকে লড়াই চালিয়ে গেছেন। এ ছাড়া, দক্ষিণের শিল্পাঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার হিসেবে গোলমালের মধ্যে অর্জুন সিংকে ‘শান্ত’ করার কথা আজও শোনা যায়।
এত সাফল্যের পরেও, মনোজ বর্মার সামনে এখন চ্যালেঞ্জ কলকাতা পুলিশের ভেতরে চলা অস্থিরতা ও আরজি কর-কাণ্ডে বাহিনীর ভাঙা মনোবল পুনর্গঠন করা। তাঁর সততা, কঠোর পরিশ্রমের ক্ষমতা এবং সাহস নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু এই পদে সাফল্যের জন্য প্রয়োজন কূটনৈতিক দক্ষতা ও মিডিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক, যা তাঁকে অনেক সময়ে সামলাতে হবে।
মনোজ বর্মা আপাদমস্তক একজন পুলিশ অফিসার—কোনও চাপের কাছে মাথা নোয়ান না। অতীতে তাঁর কর্মপদ্ধতি তাঁর সাহস ও নিষ্ঠার প্রমাণ দিয়েছে। এখন সময় বলবে, তিনি কলকাতা পুলিশের এই কঠিন সময়ের মধ্যে কতটা সফলভাবে বাহিনীর নেতৃত্ব দিতে পারবেন।







