সনাতন ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে নারীরা। ঈশ্বরের নানাবিধ রূপের মধ্যে নারী রূপের প্রাধান্য বারবার লক্ষ্য করা যায় সনাতন ধর্মে। তাছাড়া যেকোনো পূজো পার্বণে পূজোর উপকরণ সংগ্রহ, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনি করা, প্রতিমা বরণ করা, প্রসাদ প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে পুজোর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিধি পালনে নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জানেন কী আমাদের দেশে এমন অনেক মন্দির রয়েছে যেখানে নারিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। চলুন জেনে নেওয়া নেওয়া যাক ভারতের এমন কিছু জায়গা যেখানে মহিলাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।
সবার আগে বলা যায় কেরালার শবরীমালা মন্দিরের কথা, যেখানে লর্ড আয়াপ্পার পূজা হয়। এখানে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। কারণ হিসাবে বলা হয়, দেবতা আয়াপ্পা চিরকুমার ও ধ্যানরত, তাই তার ধ্যান ভঙ্গ রোধে এই নিয়ম। যদিও ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট এই নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনও বদলায়নি।
পেওয়ায় (হরিয়ানা) অবস্থিত লর্ড কার্তিকেয়ার মন্দিরেও একইরকম নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এখানে কার্তিকের ধ্যান ভঙ্গের একটি পৌরাণিক গল্প প্রচলিত আছে, যার কারণে মহিলাদের প্রবেশকে এখনও অপবিত্র বলে ধরা হয়।
ছত্তিশগড়ের মাওয়ালী মাতার মন্দিরে দুজন পুরোহিতের নির্দেশে মহিলাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়েছিল। যদিও একটি নির্দিষ্ট স্থান মহিলাদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, পূজার প্রধান স্থানটি পুরুষদের জন্যই সীমাবদ্ধ।
কেরালার আরেকটি শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরে, ‘নালাম্বালাম’ নামে অভ্যন্তরীণ অংশে নারীদের প্রবেশ আজও নিষিদ্ধ। ইতিহাস বলছে, এই নিষেধাজ্ঞার সূচনা হয়েছিল অবিবাহিত সন্ন্যাসীদের বাসের সময় থেকে।
শেষে, রাজস্থানের রনকপুরের জৈন মন্দিরে ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশ নিষেধ। এছাড়া পোশাকবিধিও কঠোর – হাঁটুর নিচ পর্যন্ত কাপড় আবশ্যিক।
এই নিয়মগুলি অনেকের কাছে ধর্মীয় রীতি, আবার কারও কাছে লিঙ্গভেদ ও বৈষম্যের প্রতীক। সময়ের দাবি-আলোচনার দরজা খোলা থাকুক, ধর্ম ও সমতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকুক।







