বারুইপুর পুলিশ জেলার মাদক বিরোধী অভিযানে বড়সড় সাফল্য। ২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর রাতে বারুইপুর থানার পুলিশের নাকা চেকিং চলাকালীন বারুইপুর–ক্যানিং রোডের কুড়ালি বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে আটক একটি কালো রঙের আর্টিকা গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার হয়। গাড়িটি দ্রুত গতিতে আসছিল বলে সন্দেহ হলে পুলিশ সেটিকে আটক করে। সেই সময় গাড়ির চালক পালিয়ে গেলেও গাড়ির ভিতরে থাকা চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই গাড়ি থেকে মোট ১২০.৭৬৭ কেজি গাঁজা, ১ লক্ষ ৮৮ হাজার ১২০ টাকা নগদ, একটি স্কুল ব্যাগ, একটি লেডিস ব্যাগ এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ধৃত চার অভিযুক্ত হলেন—কার্তিক নস্কর (৩৮), সৌভিক বৈদ্য (২৪), দেবনাথ নস্কর (৩১) এবং বাসন্তী সেনাপতি (৩০)। অভিযুক্তরা গাঁজা পরিবহণের জন্য কোনও বৈধ লাইসেন্স বা নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন।
এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে NDPS আইনের ২০(b)(ii)(C) ও ২৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে, আলিপুর আদালতের ১২তম অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জাজ দীননাথ প্রসাদ মহাশয় চার অভিযুক্তকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২ লক্ষ টাকা করে জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ বছরের অতিরিক্ত কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই মামলার তদন্তকারী অফিসার বারুইপুর থানার এসআই তুহিন মণ্ডল তাঁর সুনিপুণ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সময়মতো চার্জশিট পেশ করেন। মামলায় পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অমল পাল। ট্রায়াল চলাকালীন বারুইপুর পুলিশ জেলার ট্রায়াল মনিটরিং সেলের ওসি এসআই জয়ন্ত কুমার দাস ও তাঁর দল গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেন।
এই রায়কে বারুইপুর পুলিশ জেলার মাদক বিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে এক বড় নজির বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।







