নিজস্ব সংবাদদাতা : হিন্দুদের বারো মাসে তের পার্বণের মধ্যে জন্মাষ্টমী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা উৎসব। শ্রীকৃষ্ণের জন্ম তিথিতেই দেশ জুড়ে পালিত জন্মাষ্টমী। বাসুদেব ও দেবকীর অষ্টম সন্তান এবং বিষ্ণুর অষ্টম অবতার হিসেবে কংসের কারাগৃহে জন্ম হয় কৃষ্ণের। ভাদ্রপদ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ও রোহিণী নক্ষত্রে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল।প্রতি বছর এই তিথিতে কৃষ্ণের ছোটবেলার রূপ, ননীগোপালের পুজো করা হয়।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে নবদ্বীপ, নদীয়া, মথুরা, বৃন্দাবন সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মহা সমারোহে উত্সব পালন করা হয়। প্রায় একমাস আগে থেকে চলে তার প্রস্তুতি। জন্মাষ্টমী উত্সবে নিষ্ঠা করে সব নিয়মকানুন পালন করলে শ্রীকৃষ্ণ সন্তুষ্ট হন।
নন্দগোপালকে সকলে বাড়ির আদরের ছোট শিশুর মতো মনে করেন। তাই ভালোবাসে তাকে একাধিক ভোগ উত্সর্গ করা হয়। তবে তার মধ্যে জন্মাষ্টমীর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কিছু প্রচলিত ভোগ। জানুন এবারের জন্মাষ্টমীতে কী কী ভোগ উত্সর্গ করতে পারেন আপনি।
১. ভাদ্র মাসে খুব ভাল তাল পাওয়া যায় বাজারে। তাই এই ফল থেকে তালের বড়া ও তালের ক্ষীরের মতো সুস্বাদু পদ তৈরি করা যায়।
২. জন্মাষ্টমী মানেই মালপোয়া। সুজি ও ময়দা দিয়ে তৈরি এই ভাজা মিষ্টি গোপালের অত্যন্ত পছন্দের এক খাবার।
৩. গোপালের অত্যন্ত প্রিয় হল মাখন – মিছরি। পৌরাণিক গল্প অনুসারে শ্রীকৃষ্ণ ছোটবেলায় মায়ের আড়ালে ননী খেতেন, তাই তার আরেক নাম ননীগোপাল। সেজন্যেই এই বিশেষ দিনের ভোগের মধ্যে এটা রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
৪ . শুধু মাখন নয়, জন্মাষ্টমীতে গোপালকে তাঁর আরও এক পছন্দের খাবার উত্সর্গ করা হয়, তা হল ক্ষীর।
৫. জন্মাষ্টমীর একটি প্রচলিত ভোগ হল মোহনভোগ। আগে মূলত বাড়িতেই তৈরি করা হত এই মিষ্টি।বর্তমানে দোকানেও কিনতে পাওয়া যায় এটি।
৬. জন্মাষ্টমীর ভোগের মধ্যে ৫৬ ভোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ৫৬ রকমের নৈবেদ্যর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা পৌরাণিক কাহিনি। নিয়ম অনুসারে ৫৬ ভোগে থাকে ১৬ ধরনের জলখাবার, ২০ টি মিষ্টি এবং ২০ ধরণের শুকনো ফল। যার মধ্যে দুধের তৈরি খাবার সবার আগে পরিবেশন করতে হয়।
এবছর ৬ অগাস্ট পড়েছে জন্মাষ্টমী এবং ৭ অগাস্ট নন্দোত্সব। তবে ৬ তারিখ অষ্টমী তিথি রাতের দিকে লাগছে, এজন্যে বেশীরভাগ জায়গায় পুজো হবে ৭ তারিখ। ৬ অগাস্ট রাত ৮/১০/২৭ থেকে ৭ অগাস্ট রাত ৮/৩/২৩ পর্যন্ত থাকবে অষ্টমী তিথি।







