বুধবার একাধিক এলাকায় ঝড়, বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও টর্নেডোতে তান্ডব। বাড়ি, গাছ, নদীবাঁধ ভেঙে বিপর্যস্ত জনজীবন। আচমকা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা। বুধবার দুপুরে মাত্র তিন মিনিটের মিনি টর্নেডোর দাপটে গাইঘাটার লন্ডভন্ড কয়েকটি গ্রাম।
প্রায় ৭০ টির মতো বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাইঘাটার শশাডাঙায় বিকেল চারটে নাগাদ একটি বড় আকারের বাওড় থেকে মিনি টনের্ডোটির উৎপত্তি। যা স্বল্প সময়ে নিমেষে তছনছ করে দেয় যে কোনও এলাকা। বুধবারের প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়েও আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস ছিল। এদিন টর্নেডোর দাপটে বহু গাছ উপড়ে পড়ে, বিদ্যুতের স্তম্ভ ভেঙে যায়।ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে যান ব্লক প্রশাসনের কর্তারা। লিপিকা সাহা নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ‘বাড়িতেই ছিলাম। হঠাৎ ঝড় এল। সব ভেঙে দিল। গাছ ভেঙে পড়ল বাড়ির উপর।’
পাশাপাশি এদিন বিকেলে শিলাবৃষ্টি হয় ঠাকুরনগরে। অন্যদিকে টাকি, বসিরহাট, হিঙ্গলগঞ্জ-এ প্রবল ঝড়বৃষ্টি দেখা যায়।
তবে অতিরিক্ত ক্ষতি হয় দুলদুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের কেদারচক লঞ্চঘাট এলাকায়। এখানে নদীর উপর থাকা ৪০০ ফুট বাঁধ ধসে নদীগর্ভে চলে যায়। ব্লক প্রশাসন দ্রুত বাঁধ মেরামতের আশ্বাস দেয়। অনেকের অনুমান, বৃষ্টির জলে নদীবাঁধ নরম হয়ে পড়েছিল। দুপুরে দুলদুলির কেদারচক লঞ্চঘাটের কাছে আচমকা ফাটল ধরে। তারপর বাঁধের দীর্ঘ একটি অংশ ধীরে ধীরে নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। কিছুক্ষনের মধ্যে প্রায় ৪০০ ফুট বাঁধ নদীর বুকে নেমে যায়। নৃপেন মণ্ডল ও রাজেশ বিশ্বাস নামে স্থানীয় দুই বাসিন্দা জানায়, ‘সকাল থেকেই বৃষ্টি শুরু। দুপুরে মাটি কাঁপতে থাকে। বাঁধের কাছে গিয়ে দেখি প্রায় ৪০০ ফুট ভেঙে নদীর জলের মধ্যে চলে গিয়েছে। আমরা খুব আতঙ্কে রয়েছি। জল বাড়লেই ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।’
এর পাশাপাশি অকাল বৃষ্টির ফলে চিন্তায় আমচাষিরা । ইলিয়াস মণ্ডল, সইদুল গাজি নামে বারাসতের দুই আমচাষি বলেন, ‘ঝড়বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হল। মুকুল ঝড়ে গিয়েছে। চিন্তা বাড়ছে। আবহাওয়ার এমন থাকলে সব্জির পাশাপাশি আমচাষেরও ব্যাপক ক্ষতি হবে।’







