অফবিট

প্রতিক্ষার অবসান শেষ! ২৭শে ফেব্রুয়ারীতেই নবদ্বীপে শুভ উদ্বোধন রাজ্যের মধ্যে সর্ব বৃহৎ শিব মূর্তির।

দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক ধর্মীয় পীঠস্থান নদীয়ার নবদ্বীপ ধাম।কথিত আছে নবদ্বীপ হেন গ্রাম ত্রী ভূবনে নাই, যহি অবতীর্ণ হইলো চৈতন্য গোসাঁই।
অর্থাৎ শ্রীমন মহাপ্রভুর জন্মস্থান এই নবদ্বীপ যা বৈষ্ণব ধর্মের অন্যতম পীঠস্থান হিসেবেও বলা হয়, আর নবদ্বীপ শহরের বুক চিরে বয়ে গেছে ভাগীরথী নদী।
আর এই ভাগীরথী নদীর এক প্রাপন্তে রয়েছে বর্তমানের নবদ্বীপ শহর যেখানে জন্ম গ্রহন করেছিলেন শ্রীমন মহাপ্রভু, আর নদীর অপর প্রান্তে নবদ্বীপ ব্লকের মায়াপুর এলাকায় রয়েছে ইস্কনের প্রধান কার্যালয় মায়াপুর মন্দির,।আর ইস্কনের উদ্যোগে সেখানে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মন্দির, যা ইতিমধ্যে সকলেই জানে, আর এবার বৈষ্ণব তীর্থ তথা মন্দির নগরী নবদ্বীপে তৈরী হচ্ছে এক প্রকান্ড বসে থাকা শিব মূর্তী, যা উচ্চতায় রাজ্যের মধ্যে সর্ব বৃহৎ বলেই দাবী এই শিব মূর্তী তৈরির উদ্যোগক্তারা।
নবদ্বীপ শহরের মণিপুর ঘাট সংগ্লগ্ন এলাকায় রয়েছে প্রভুপাদ তিনকড়ি গোস্বামী প্রতিষ্ঠিত শ্রী শ্রী রাধাবল্লভ জিউ মন্দির, সহ তিনকড়ি গোস্বামী চ্যারিটেবল ট্রাস্ট। আর তাদে উদ্যোগেই নবদ্বীপ মণিপুর ঘাট সংগ্লগ্ন শ্রী শ্রী তিনকড়ি গোস্বামীর সমাধি মন্দির বর্তমানে যাকে গৌরাঙ্গ বিহার নাম দেওয়া হ’য়েছে সেখানেই তৈরী হয়েছে
এই শিব মূর্তি যা উচ্চতাা প্রায় ৮০ ফুট,।
বীগত প্রায় একবছর সময় ধরে চলছে এই মূর্তী নির্মানের কাজ,। নিচে কংক্রিটের ভিত করে তার ওপর লোহার রড, প্লাস্টার, ফাইবার সহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তৈরি হয়েছে এই মূর্তী,।মন্দির কতৃপক্ষের তরফে তিনকড়ি গোস্বামীর নাতি প্রভুপাদ গিরি গোপাল গোস্বামী জানান আমাদের মন্দিরের বিভিন্ন সেবা কার্য পরিচালিত হয় মন্দির তথা ঈশ্বরের আরাধনার পাশাপাশি, আর কথায় আছে শিব জ্ঞানে জীব সেবা,, আর সকল মঠ মন্দিরে শিব মূর্তি থাকে, এরও এক ধর্মীয় ব্যাখা আছে, পাশাপাশি আমদের গুরুদেবরও ইচ্ছে ছিলো নবদ্বীপ ধামে একটি শিব মূর্তি তৈরী হোক, সেই ভাবনা থেকে ও সকল ভক্তের ইচ্ছেতেই এই বৃহৎ শিব মূর্তি তৈরী।কিন্তু নবদ্বীপ তো বৈষ্ণব ধর্মের পীঠস্থান সেখানে শিব মূর্তি কেন? প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান মহাদেব ছিলেন পরম ভক্ত, তার সাথে বৈষ্ণব সমাজ অঙ্গাঙ্গী ভাবে জরিত, পাশাপাশি তিনি আরও বলেন চৈতন্য ভাগবতেও উল্লেখ আছে মহাপ্রভু বলছেন স্বয়ং মহেশ হলেন অদ্বৈত আচার্য প্রভু, অর্থাৎ বৈষ্ণব জগৎ আর মহাদেব বিশেষ ভাবে জরিত, এমন কোন স্থান বা বৈষ্ণব মন্দির নেই যেখানে মহাদেব নেই,এমনকি শিবচতুর্দশিও আমরা পালন করি, শ্রীমদভগবত সিদ্ধান্তেও আমরা পাই মহাদেব নিজে বলেছেন তিনি যার নামে বিভোর থাকি, নিরন্তর চিন্তা করি তিনি স্বয়ং শ্রী কৃষ্ণ। সুতরাং আমাদের এখানে এই বহৎ মহাদেবের মূর্তি দেখতে ভক্তরা আসবে আমরাও আসা বাদী। তিনি আরও জানান যে জায়গায় এই শিব মূর্তী তৈরি হচ্ছে সেখানে রয়েছে তাদের গুরুদেবের সমাধি মন্দির, তৈরি হয়েছে হাসপাতাল সহ বিবিধ সামাজিক কাজের পরিকল্পনা, । আর সারা বিশ্বের মানুষ নবদ্বীপ ধামে তীর্থ বা ঘুরতে আসলেও সিংহ ভাগ মানুষ ছুটে যায় ইস্কনের মন্দিরে, সেখানে নবদ্বীপে এত বৃহৎ এই মহাদেবের মূর্তি ভক্তদের মনে জায়গা করে নেবে।তিনি বলেন এই মন্দিরের পাস দিয়েই বয়ে গেছে ভাগীরথী নদী,, মহাদেবের জটা থেকেও বেরোবে গঙ্গা, সাথে রয়েছে বিভিন্ন ফুলের বাগানও।আগামী ২৭ শে ফেব্রুয়ারি ২০২৫ বৃহস্পতিবার সকাল ৮:০০ টায় ওই শিব মূর্তির উদ্বোধন করবেন শ্রী শ্রী বিনোদবিহারী দাস মহারাজ। এছাড়াও ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন নবদ্বীপ পৌরসভার পৌরপতি বিমান কৃষ্ণ সাহা সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ বিভিন্ন মঠ মন্দিরের সাধু সন্ত মহারাজগন।
তিনি নবদ্বীপের ওপর দিয়ে আছে গৌরাঙ্গ সেতু, বর্ধমান সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা ও ভিন রাজ্যের সংযোগের ক্ষেত্রে এই গৌরাঙ্গ সেতুর ভূমিকাও অনেক আর এই মহাদেবের মূর্তি এতটাই বৃহৎ হয়েছে গৌরাঙ্গ সেতু থেকেও যথেষ্ট দেখা যাবে, সুতরাং ভক্ত সহ বাইরের পর্যটকদের দৃষ্টিও যথেষ্ট আকর্ষণ হবে তা বলাই বাহুল্য। এ ছাড়াও নবদ্বীপ সহ পর্যটকদের কাছে একটা অন্যতম দর্শনীয় স্থান হবে এই শিব মূর্তী, আর এর ফলে নবদ্বীপে আরও বেশি পর্যটক আগামী দিনে আসবে বলেও আশাবাদী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.