শনিবার সুপার কাপে দ্বিতীয় সারির দল নামিয়েও শক্তিশালী কেরল ব্লাস্টার্সকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল মোহনবাগান। সবুজ-মেরুনের দেশীয় তরুণেরা দেখালেন, সুযোগ পেলেই তাঁরা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারেন। কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে সাহাল আব্দুল সামাদ ও সুহেল ভাটের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দিলেন বাস্তব রায়ের দল।
মোহনবাগানের শুরু থেকেই পরিকল্পনা ছিল দেশীয় ফুটবলারদের ঝালিয়ে নেওয়া। বিদেশি শক্তি ছাড়াই পুরো দমে লড়লেন সাহাল, আশিক কুরুনিয়ন, দীপক টাংরিরা। গোলের নীচে ধীরজ সিংহ ছিলেন নিঃশব্দ প্রহরী হয়ে। যিনি একের পর এক নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে কেরলের স্বপ্ন ভেঙে দেন।
কেরল প্রথম থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মোহনবাগানের রক্ষণভাগের দুর্দান্ত সংহতি এবং টাংরির মতো ফুটবলারের ছায়া রক্ষণের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ানোর কৌশল তাদের আক্রমণ ভেস্তে দেয়। বাস্তব রায়ের ছক কেরলের বিপজ্জনক ফুটবলার নোয়া সাদাইউকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেয়।
সালাউদ্দিনের ডানপ্রান্তে দুর্দান্ত দৌড় এবং সঠিক পাস থেকে সাহালের গোলে প্রথম লিড নেয় মোহনবাগান। দ্বিতীয়ার্ধে আশিকের গতি ও বল নিয়ন্ত্রণ কেরলের রক্ষণকে চূর্ণ করে সুহেলের পায়ে আসে দ্বিতীয় গোল। ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তে বাগানের তরুণদের ঝাঁঝ স্পষ্ট ছিল।
কেরল শেষদিকে গোল শোধ করলেও মোহনবাগানের রক্ষণভাগের শান্ত মাথা ও সংঘবদ্ধতার সামনে বড় কোনও বিপদ ঘটাতে পারেনি। বিপুল আত্মবিশ্বাসে সেমিফাইনালের টিকিট কনফার্ম করে সুপার কাপ জয়ের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে সবুজ-মেরুন।
এখন অপেক্ষা, এফসি গোয়া বনাম পঞ্জাব এফসি ম্যাচের ফলাফলের। সেই ম্যাচের বিজয়ীর বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে লড়বে বাস্তবের লড়াকু বাহিনী। আর মোহনবাগান সমর্থকরা আশায় বুক বাঁধছেন, মরসুম শেষ হবে আরও একটি ট্রফির উল্লাসে।







