নিশব্দে ভেঙে পড়ল এক পরিবার। বৃহস্পতিবার রাত আটটার পর থেকেই জম্মু-কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখায় পাকিস্তানের তরফে শুরু হয় ব্যাপক গোলাবর্ষণ। উরি সেক্টরে কর্মরত ছিলেন বিএসএফ জওয়ান মুরলী নায়েক। তখনই পাকিস্তানের ছোড়া গোলায় গুরুতর আহত হন তিনি। তড়িঘড়ি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। ভোরের আলো ফোটার আগেই আসে সেই দুঃসংবাদ—শহিদ হয়েছেন মুরলী।
অন্ধ্রপ্রদেশের সত্যসাই জেলার এক সাধারণ পরিবারের সন্তান ছিলেন মুরলী। ২০২২ সালে সেনার ৮৫১ লাইট রেজিমেন্টে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই দেশের জন্য কাজ করার অদম্য ইচ্ছা ছিল তাঁর। মুম্বইয়ে দিনমজুরের কাজ করতেন তাঁর বাবা-মা। ছেলের সেনায় চাকরি পাওয়ার পর তাঁরা সেই কাজ ছেড়ে গ্রামে ফিরে আসেন গর্ব নিয়ে।
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নিয়ন্ত্রণরেখা। পাকিস্তানের একের পর এক গোলাবর্ষণে প্রাণ হারাচ্ছেন ভারতীয় জওয়ানরা। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন মুরলী নায়েকের নামও।
রাত তিনটেয় বাড়ির ল্যান্ডফোনে প্রথম খবর আসে তাঁর আহত হওয়ার। তারপর ভোররাতে সেই দুঃস্বপ্নের ফোন—মুরলী আর নেই। পরিবারের বুক ফেটে কাঁদে, গ্রামের আকাশ ভারী হয় শোকের ছায়ায়। দেশের মাটির জন্য জীবন উৎসর্গ করা এই বীর জওয়ানকে আজ শ্রদ্ধা জানায় গোটা দেশ।







