খেলাধুলা

‘অভিশাপমোচন’ হার্দিকের! দিল্লিকে দুরমুশ করে প্লে অফে মুম্বই

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে যাঁকে ঘিরে বিতর্ক, বিদ্রুপ আর প্রশ্নবাণ, তিনিই যেন জবাব দিলেন ব্যাটে-বলে নয়, পরিকল্পনা আর নেতৃত্বে। ৩৬৯ দিন আগে যে মাঠ তাঁকে বিদ্রুপ করেছিল, সেই ওয়াংখেড়েতেই মঙ্গলবার রাতে হিরো হলেন হার্দিক পাণ্ড্য। তাঁর নেতৃত্বে দিল্লি ক্যাপিটালসকে হারিয়ে চতুর্থ দল হিসাবে আইপিএল ২০২৫-এর প্লে-অফে জায়গা করে নিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।

গত মরসুমে অধিনায়কত্ব নেওয়ার পরে সমালোচনার তুফানের মুখে পড়েছিলেন হার্দিক। রোহিতকে সরিয়ে নেতৃত্ব নেওয়া, খারাপ পারফরম্যান্স, দলকে পয়েন্ট টেবিলের শেষে ফেলে দেওয়া—সব কিছুর দায় যেন একাই কাঁধে নিয়েছিলেন তিনি। ওয়াংখেড়ের গ্যালারিতে উঠেছিল তাঁকে অপমান করা পোস্টার। কিন্তু এবার সেই গ্যালারি জুড়েই ছিল জয়ধ্বনি, প্রশংসার কলতান।

মুম্বইয়ের সফল ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে বড় ভূমিকা নিয়েছেন দলগঠন ও কৌশল ঠিক করা হার্দিক। কুইন্টন ডি’কক, ঈশান, ডেভিডদের ছেড়ে দিয়ে তিনি দলে এনেছেন রায়ান, বোল্ট, চহরদের মতো কার্যকরী খেলোয়াড়। নতুন বলে বোল্ট-চহর, মাঝের ওভারে স্পিন জুটির দাপট, আর ডেথ ওভারে বুমরাহ—এই আক্রমণে চুপসে গিয়েছে একের পর এক ব্যাটিং লাইনআপ।

ব্যাট হাতে নিজের অবদান বেশি না থাকলেও, নেতৃত্বে হার্দিকের সাহস ও দূরদর্শিতা আলাদা করে চোখে পড়েছে। রোহিতকে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার বানানো, পরিস্থিতি বুঝে কর্ণ বা বশের মতো ক্রিকেটারদের ব্যবহার—সবই পরিকল্পনার অঙ্গ ছিল। ফিল্ডিং থেকে বোলার বাছাই, প্রতিটি সিদ্ধান্তে ছাপ ছিল নেতার কৌশলের।

মঙ্গলবার দিল্লির বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে সূর্যকুমার ও নমনের দাপটে ১৮০ রান তোলে মুম্বই। শেষ দুই ওভারে আসে ৪৮ রান। এরপর বল হাতে স্যান্টনারের স্পিন জাদুতে (৪-১১-৩) ভেঙে পড়ে দিল্লি। চহর-বোল্ট-বুমরাহের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে প্রতিরোধ গড়তে পারেনি তারা।

এক বছর আগের চোখের জলের জায়গায় এদিন ছিল গর্ব, মাথা উঁচু করে ওয়াংখেড়ে ছাড়লেন অধিনায়ক হার্দিক। ট্রফি এখনও দূরে, কিন্তু ‘শাপমুক্তি’র রাত্রিতে মুম্বই যেন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.