জম্মু ও কাশ্মীরে সোমবার এক অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী থাকলেন স্থানীয়রা। ৪৮ বছরের পুলিশ আধিকারিক শ্যামলাল আচমকাই চড়ে বসেন ১৫ মিটার উঁচু এক গাছের মাথায়। সেখান থেকেই শুরু হয় নাটকীয়তা—তিনি হুমকি দিতে থাকেন, কেউ যদি তাঁকে নামাতে আসে, তবে তিনি আত্মহত্যা করবেন।
শ্যামলালের দাবি, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে তাঁর মাসিক বেতন ১৮ হাজার টাকা থেকে কমে মাত্র ৪ হাজারে এসে ঠেকে। এই আর্থিক সংকটেই তিনি ভেঙে পড়েছেন মানসিকভাবে। আর তাই এমন চরম সিদ্ধান্তের পথ বেছে নেন তিনি।
ঘটনাস্থলে ততক্ষণে ভিড় জমে যায় স্থানীয়দের। খবর দেওয়া হয় গ্রাম প্রধান ও পুলিশে। দমকল ও পুলিশ দল গাছের নিচে জাল পেতে, মই নিয়ে উদ্ধার চেষ্টা শুরু করে। কিন্তু শ্যামলাল অনড়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অবশেষে ডাকা হয় বিধায়ক রামশ্বর সিংকে। রাত সাড়ে ৯টার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ আলোচনার পর শ্যামলালকে গাছ থেকে নামাতে সক্ষম হন তিনি।
পরে সংবাদমাধ্যমে বিধায়ক জানান, শ্যামলাল কোভিড-পরবর্তী বেতনের কাটছাঁট নিয়ে চরম আর্থিক চাপে রয়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশের ডিআইজি শিব কুমার জানান, শ্যামলালকে আগেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ফলে তাঁর দাবির সত্যতা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
গাছ থেকে নামার পর শ্যামলালের শারীরিক পরীক্ষা হয় ও পরে বিধায়কের সঙ্গে তাঁকে পাঠানো হয়। তবে তাঁর চাকরি থাকা বা না থাকার বিষয়ে এখনও রহস্য রয়ে গেছে। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে—ব্যবস্থার ফাঁকেই কি হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের মানসিক স্থিতি?







