জেলারাজ্য

‘কেষ্টদার ইজ্জতের প্রশ্ন!’ – শান্তিনিকেতন থানায় হাজিরা নিয়ে টানটান উত্তেজনা, নেপথ্যে গোপন বার্তা ও কালজ্যোতিষ!

অষ্টপ্রহরের রাজনীতিতে শেষ মুহূর্তে সবকিছু বদলে যেতে পারে—সে কথা বহুবার দেখা গেছে। এবার কি তবে বদলের ঠিক সেই মুহূর্ত? নাকি সত্যিই শেষ হতে চলেছে অনুব্রত মণ্ডলের ‘বিশ্রাম পর্ব’?

সূত্রের খবর, শান্তিনিকেতন থানায় কবে কখন হাজিরা দিতে হবে, সেই বার্তা ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে নিচুপট্টিতে। ‘দিদির দূত’ খোদ পৌঁছে গিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন স্পষ্ট ভাষায়—আর দেরি নয়! এই হাজিরা শুধু মামুলি আইনি প্রক্রিয়া নয়, এ ‘কেষ্টদার ইজ্জতের প্রশ্ন!’

বোলপুরে সোমবার রাতটা ছিল থমথমে। কারণটা পরিষ্কার—এই নাটকের প্রতিটি পর্ব যেন নতুন মোড় নিচ্ছে।

কীভাবে শুরু এই বিতর্কের?
সবকিছু মাথাচাড়া দেয় গত বৃহস্পতিবার রাতের সেই ভাইরাল অডিও টেপ ঘিরে। যেখানে শোনা যায় অনুব্রত মণ্ডল, বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করছেন। পরদিন সকালেই রাজ্য জুড়ে হইচই, দল থেকে স্পষ্ট বার্তা—চার ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অনুব্রতর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া কার্যত স্বীকার করে নেয়—ভয়েস ওই কেষ্টরই।

আইনি রাস্তায় পুলিশ, সাফাইয়ের চেষ্টায় ঘনিষ্ঠরা
পুলিশ সুপার আমনদীপ জানিয়ে দেন, ফৌজদারি দণ্ডবিধির চারটি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। নির্দেশ—শনিবার সকাল ১১টার মধ্যে থানায় হাজিরা দিতে হবে। কিন্তু কেষ্টবাবু শনিবারও গেলেন না, রবিবারও না।
বরং তাঁর এক ঘনিষ্ঠ দাবি করেন—“এই ভয়েস নাকি AI দিয়ে বানানো!”

এদিকে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর টিপ্পনি—“দু’দিন চুপচাপ থাকলেই মিডিয়া ভুলে যাবে, এমন যদি ভেবে থাকেন অনুব্রত, তবে তা দিবাস্বপ্ন!”

নেতার চাপে দোলাচল তৃণমূলে
রবিবারই অমিত শাহের সভা থেকেও আলোচনার মঞ্চ থেকে সরে যেতে পারেননি কেষ্ট। সোমবারও খবরের শিরোনামে তিনিই। শাসকদলের অস্বস্তি তুঙ্গে। কারণ, পুলিশের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে, দলীয় নেতৃত্ব হতচকিত।

তৃণমূল সূত্র বলছে, কলকাতা থেকে কড়া বার্তা গেছে—“আর দেরি নয়, মঙ্গলবারই থানায় হাজিরা দিতে হবে।” কিন্তু এখানেই টুইস্ট!

কালচক্রের টানাপোড়েন: শুভ সময় কোথায়?
বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা বলছে, মঙ্গলবার কোনও শুভযোগ নেই। ‘যাত্রা নাই’, ‘শুভকর্ম নাই’—তবে কি পঞ্জিকার দোহাই দিয়ে আরও সময় নেবেন কেষ্টবাবু?

ববি হাকিম বলছেন—ব্যক্তিগত ব্যাপার!
বীরভূমের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ফিরহাদ (ববি) হাকিম বলছেন—“কবে যাবেন, সেটা অনুব্রত নিজেই জানেন। দল এতে কিছু বলবে না।” অথচ তৃণমূলের ভিতর থেকেই কেউ কেউ তথ্য পাচার করছেন বলে ক্ষোভ ঘনিষ্ঠদের।

তবে সূত্রের দাবি, কোনও নতুন কৌশল না এলে, মঙ্গলবারই শান্তিনিকেতন থানায় হাজিরা দেবেন অনুব্রত।

ঘড়ি চলছে…
টিক টক, টিক টক… কেষ্ট কি এবার সত্যিই হাজির হবেন? নাকি আবারও চমক?

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.