বুধবার বিকেলে কলকাতার তৃণমূল ভবনে দার্জিলিং জেলা কংগ্রেসের প্রায় ২০ বছরের সভাপতি শংকর মালাকার আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগদান করলেন। তার হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি এবং মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এই যোগদানের ফলে উত্তরবঙ্গে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
যোগদানের পর শংকর মালাকার বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি উত্তরবঙ্গের মানুষের আবেগ নিয়ে খেলছে এবং বিভাজনের রাজনীতি করছে। তার কথায়, “বিজেপি কখনও কামতাপুর রাজ্য, কখনও গোর্খাল্যান্ড রাজ্য গঠনের হাওয়া তুলছে। কখনও আবার বলছে উত্তরবঙ্গকে আলাদা রাজ্য করে দেবে। এভাবে উত্তরবঙ্গের সরল মানুষের আবেগ নিয়ে খেলছে তারা।”
শংকরবাবু আরও বলেন যে তিনি ১০ বছর বিধায়ক থাকাকালীন উপলব্ধি করেছেন যে শাসকদলের সঙ্গে না থাকলে এলাকার উন্নয়ন করা যায় না। তার এই দলবদল রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শংকর মালাকারের তৃণমূলে যোগদানে উত্তরবঙ্গে কংগ্রেসের অস্তিত্বই কার্যত প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল। তারা মনে করছেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল তাকে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করতে পারে।
সকালেই শংকর মালাকারের দলবদলের খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার তড়িঘড়ি তাকে দলের সমস্ত পদ থেকে সরিয়ে দেন। শংকর মালাকার শুধু দার্জিলিং জেলা কংগ্রেস সভাপতিই ছিলেন না, তিনি এআইআইসি-র সদস্য এবং কংগ্রেসের উত্তরবঙ্গের পর্যবেক্ষকও ছিলেন। তার এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।







