মালদহ জেলার উত্তরচন্ডিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মানুষ বন্যার দুদশায় ঘরছাড়া হয়েছিলেন, জলবন্দী ছিলেন দীর্ঘ মাস ধরে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই বিপর্যয়ের সুযোগ নিয়েই দুর্নীতির গন্ধ মিলল সেই গ্রাম পঞ্চায়েতের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। তৃণমূল পরিচালিত উত্তরচন্ডিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অর্চনা মন্ডল, সরকারি কর্মচারী বাসুদেব মন্ডল ও একটি ঠিকাদারের বিরুদ্ধে বড় অংকের সরকারি তহবিল নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে।
বন্যার মতো দুর্যোগের সময়ে সরকারি প্রকল্প যেমন ১৫ তম অর্থ কমিশন ও স্বচ্ছ ভারত মিশন থেকে বরাদ্দ প্রায় দেড় কোটি টাকা ভুয়ো বিল বানিয়ে উত্তোলনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে গ্রাম পঞ্চায়েতেরই ১৬ জন সদস্য—including ১৩ জন তৃণমূল, ২ জন কংগ্রেস ও ১ জন বিজেপি—সহ একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তারা ব্লক ও জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন, পাশাপাশি বিষয়টি উচ্চ আদালতের দরজাতেও পৌঁছেছে।
উপপ্রধান নাসির শেখ ও অন্যান্য সদস্যরা ইতিমধ্যে মানিকচক ব্লকের বিডিও এবং মালদহ জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তাদের দাবি, দুর্যোগে বিপর্যস্ত ভূতনির মানুষের দুর্ভোগকে নিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ লুট হয়েছে, যা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের নেতৃত্বে সংঘটিত হয়েছে।
এই ঘটনা শুধুমাত্র এলাকার মানুষের মধ্যে নয়, প্রশাসনিক স্তরেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই কঠোর লড়াই আগামী দিনগুলোতে কী পরিণতি আনবে, সেটাই এখন অপেক্ষার বিষয়। তবে একথা নিশ্চিত, বন্যার ভয়াবহতা পেছনে ফেলে দুর্নীতির অন্ধকারের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ভূতনিবাসী মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই চলছে জোরেশোরে।







