কালিগঞ্জ উপনির্বাচনে ভোটার পরিবহণের কাজে গিয়ে ঘটল এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। ভাগীরথী নদীতে নৌকা চালাতে গিয়ে নিখোঁজ হলেন পূর্ব বর্ধমানের নলিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা, ৩৬ বছরের লালন হালদার। ভোটারদের পারাপারের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার সকালে। লালন হালদার তাঁর বাবা রতন হালদারকে সঙ্গে নিয়ে একটি নৌকা চালিয়ে নদিয়ার শিলুড়ি চর থেকে ভোটারদের নিয়ে যাচ্ছিলেন কালিগঞ্জ বিধানসভার ফুলবাগান কেন্দ্রে। মাঝ নদীতে হঠাৎই নৌকায় ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান লালন। নদীর স্রোতে তিনি তলিয়ে যান। তাঁর আর খোঁজ মেলেনি।
খবর পেয়েই তৎপর হয় প্রশাসন। নদিয়ার জেলা প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং শুরু হয় তল্লাশি। তবে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পরও লালনের সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ মাঝির পরিবারে এখন শোকের ছায়া।
এই দুর্ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল নির্বাচন চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর। নদীপথে ভোটার পরিবহণের সময় আদৌ ছিল কি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি? কেন রাখা হয়নি প্রয়োজনীয় লাইফ জ্যাকেট বা জরুরি ব্যবস্থা?
এ বিষয়ে জেলাশাসক এস অরুণপ্রসাদ জানিয়েছেন, “ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।”
তবে একটাই প্রশ্ন এখন সকলের মনে—ভোট করাতে গিয়ে আর কত প্রাণ যাবে? উপযুক্ত নিরাপত্তা ছাড়া এই ধরনের পরিবহণে প্রশাসনের অনুমতি কীভাবে মিলল, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।







