চাকরি

লক্ষ্য স্বনির্ভর বাংলা, ডিম উৎপাদনে বড় পরিকল্পনা; বাড়বে কর্মসংস্থান, নজর উত্তর-পূর্ব ভারতের বাজার

রাজ্যে ডিম উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে বড়সড় পরিকল্পনা নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। বর্তমানে দৈনিক উৎপাদনের ঘাটতি পূরণ করে আগামী দেড় বছরের মধ্যে শুধু রাজ্যের চাহিদাই নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও ডিম রফতানির লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই উদ্যোগের ফলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি ২০ লক্ষ ডিম উৎপাদিত হলেও প্রায় ৮০ লক্ষ ডিমের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ করতে এতদিন অন্ধ্রপ্রদেশ-সহ অন্যান্য রাজ্যের উপর নির্ভর করতে হত। প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাঁস ও মুরগি পালন বাড়ানোর পাশাপাশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদেরও এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৪০০টি ডিম উৎপাদনকারী ফার্ম রয়েছে। এই শিল্পে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৮ লক্ষ এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ১২ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে এই সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজ্যের লক্ষ্য শুধু নিজের চাহিদা মেটানো নয়। ঝাড়খণ্ড, অসম, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলার ডিম সরবরাহের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই বাজারের বড় অংশ জোগান দেয় অন্ধ্রপ্রদেশ।

তবে উৎপাদন বৃদ্ধির পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মুরগির খাদ্যের দাম বৃদ্ধি। সয়াবিন ও ভুট্টার দাম গত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। সেই কারণে খামারিরা বর্তমানে প্রতি ডিম প্রায় ৭ টাকায় বিক্রি করছেন। তবুও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ডিমের দাম রাখতে প্রশাসন নজরদারি চালিয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে।

ডিম উৎপাদনকারী সংগঠনগুলির দাবি, সরকারের সহযোগিতা পেলে পশ্চিমবঙ্গ খুব দ্রুতই ডিম উৎপাদনে স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারবে। এর ফলে একদিকে যেমন ভিনরাজ্যের উপর নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে কৃষি ও পোল্ট্রি শিল্পকে ঘিরে গ্রামীণ অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.