ডিভিসি (দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন)-র ছাড়া জলে কার্যত জীবন থেকে ছিন্ন হয়ে গেল হাওড়ার বেশ কয়েকটি দ্বীপাঞ্চল। বুধবার হঠাৎ করে ডিভিসি যে পরিমাণ জল ছাড়ে, তাতে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফুলে-ফেঁপে ওঠে মন্দেশ্বরী নদী। প্রবল জলের তোড়ে একে একে ভেঙে পড়ে তিনটি বাঁশের সেতু—হায়াতপুরের ঘাট, ভাটোরার গায়েনপাড়া ঘাট এবং কুলিয়া ঘাট। এই সেতুগুলিই ছিল ঘোড়াবেরিয়া চিতনান ও ভাটোরা পঞ্চায়েতের মানুষের মূল জীবনরেখা।
পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে এখন কয়েক হাজার মানুষ জীবন বাজি রেখে নৌকায় নদী পার হচ্ছেন। বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়া, রোগী, শ্রমজীবী মানুষজন চরম বিপাকে পড়েছেন। কারণ, শক্তপোক্ত বাঁশের সেতুগুলিই ছিল এই অঞ্চলগুলোর একমাত্র পায়ে হাঁটা রাস্তা। নদী পার হওয়ার জন্য কোনও বিকল্প অবকাঠামো নেই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ—প্রতিবছর বর্ষার শুরুতেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, কিন্তু প্রশাসনের তরফে কোনও স্থায়ী সমাধান নেই। বারবার জানানো সত্ত্বেও নির্মিত হয়নি কোনও কংক্রিট সেতু। ফলে বাঁশের সেতুর উপরই ভরসা করে চলছিল গোটা জনজীবন।
এখন প্রশ্ন উঠছে—এতটা গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ জনপদের সঙ্গে এখনও পাকা সেতু নেই কেন? ডিভিসি জল ছাড়বে, এটা তো নতুন কিছু নয়। তবে আগাম প্রস্তুতি কোথায়?
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন যারা নদী পার হচ্ছেন, তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে? কবে মিলবে একটুকরো স্থায়ী সমাধান?







