গ্রুপ সি ও ডি পদে চাকরি হারানোদের ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্তে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যের এই সিদ্ধান্তকে একপ্রকার “দুর্নীতিকে প্রশ্রয়” বলেই কটাক্ষ করলেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। তাঁর অভিযোগ, “যাঁরা সাদা খাতা জমা দিয়ে অবৈধভাবে চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের মুখ বন্ধ করতেই এই ভাতার সিদ্ধান্ত। দুর্নীতিকে আড়াল করতে চাইছিল রাজ্য।”
বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট জানায়, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ভাতা দেওয়া যাবে না। চার সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে হলফনামা দিতে বলা হয়েছে, তার জবাবে ফের দু’সপ্তাহ সময় পাবে মামলাকারীরা। এরপর ফের শুনানি।
শামিমের অভিযোগ, “রাজ্যের এই সিদ্ধান্ত দুর্নীতিগ্রস্তদের অর্থ দিয়ে পুরস্কৃত করার মত। জনগণের করের টাকা দিয়ে ‘অপাত্র’দের মুখ বন্ধের চেষ্টা হচ্ছিল। কারণ, সিবিআই যাতে তাঁদের হেফাজতে নিয়ে না জেরা করতে পারে, সেই পথ বন্ধ করতেই এই স্কিম।”
তিনি আরও বলেন, “দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে সরকারি আধিকারিক, এমনকি মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও। তাঁদের থেকে টাকা আদায়ের যে নির্দেশ আদালত আগে দিয়েছিল, তা আজও কার্যকর হয়নি।”
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেল বাতিল হওয়ার পর প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-কর্মী চাকরি হারান। যোগ্যদের আপাতত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকার ছাড়পত্র মিললেও গ্রুপ সি ও ডি কর্মীরা সেই সুযোগ পাননি। তাই রাজ্য তাঁদের ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়—গ্রুপ সি-কে মাসে ₹২৫,০০০ ও গ্রুপ ডি-কে ₹২০,০০০।
কিন্তু আদালতের প্রশ্ন, “বেকাররা যদি কোনও সহায়তা না পান, তাহলে অবৈধভাবে চাকরি পাওয়া চাকরিহারারা কেন পাবেন?” সেই প্রশ্নেই আপাতত থেমে গেল রাজ্যের ভাতা প্রকল্প।







