বলিউডের গ্ল্যামার-ঝলমলে দুনিয়ায় সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। তবে ব্যতিক্রম সবসময় নজর কাড়ে। যেমন নজর কাড়ছে অর্পিতা খান শর্মা ও আয়ুষ শর্মার বৈবাহিক জীবনের অনন্য সমীকরণ।
২০১৪ সালে উত্তরাখণ্ডের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান আয়ুষকে বিয়ে করেন সলমন খানের বোন অর্পিতা। একদিকে বলিউড, অন্যদিকে রাজনীতি—দু’টি শক্তিশালী ব্যাকগ্রাউন্ডের সংমিশ্রণে এই সম্পর্ক ঘিরে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। কেউ বলেছিলেন, সিনেমায় সুযোগ পাওয়ার উদ্দেশ্যেই প্রেমে পড়েছেন আয়ুষ। আবার অনেকেই বলেছিলেন, এই সম্পর্ক বেশিদিন টিকবে না।
কিন্তু সব জল্পনাকে ছাপিয়ে আজ তাঁরা দুই সন্তানের গর্বিত বাবা-মা। সম্পর্কের গভীরতা যেন আরও বেড়েছে সময়ের সঙ্গে।
তবে চমক রয়েছে অন্য জায়গায়! সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁদের দাম্পত্য জীবনের এমন এক দিক তুলে ধরেছেন অর্পিতা-আয়ুষ, যা শুনে হতবাক অনেকেই।
আয়ুষ স্পষ্ট জানালেন—বিয়ের প্রথম দিন থেকেই আলাদা ঘরে থাকেন তাঁরা। বললেন, “আমার একটি ব্যক্তিগত ঘর রয়েছে, যেখানে আমি নিজেকে সময় দিই, সিনেমা দেখি, কাজের প্রস্তুতি নিই। অর্পিতা কোনওদিনই সেখানে পা রাখেনি।”
অর্পিতাও স্বামীকে সমর্থন করে বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি ব্যক্তিগত পরিসরের গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা একে অপরকে নিঃশর্তভাবে সম্মান করি বলেই সম্পর্কটা আজ এত শক্তপোক্ত।”
ঘুমের রুটিন থেকে দৈনন্দিন অভ্যাস—সবেতেই ভিন্নতা। তবু সেই ভিন্নতাই তাঁদের সম্পর্ককে দিয়েছে এক নতুন দৃঢ়তা।
এই যুগে যেখানে সম্পর্ক ভাঙছে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ কিংবা একে অপরকে নিঃশ্বাস নিতে না দেওয়ার কারণে, সেখানে অর্পিতা-আয়ুষ দেখালেন, ‘স্পেস’ মানে দূরত্ব নয়, বরং গভীর ভালোবাসার ভিত।
তাঁদের ব্যতিক্রমী ভাবনা আজকের প্রজন্মের কাছে নিঃসন্দেহে এক উজ্জ্বল উদাহরণ। সম্পর্ক মানে সবসময় একসঙ্গে থাকা নয়, বরং স্বাধীনতা ও সম্মানের সঙ্গেই চলা—এই বার্তা ছড়িয়ে দিলেন অর্পিতা ও আয়ুষ।







