নিজেস্ব সংবাদদাতা : তৃণমূল পঞ্চায়েত ভোটের আগে সাগরদিঘির উপনির্বাচনে জোরাল ধাক্কা খেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় মালদার কর্মসূচি থেকে সেই সাগরদিঘি নিয়ে সরব হয়েছেন । তিনি বলেন, সাগরদিঘিতে কে টাকা দিয়েছে আমি জানি। যদিও, এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিরোধীরা এবং পাল্টা কটাক্ষও ছুড়ে দিয়েছে ।
‘টাকা দিয়ে লোক কেনা সাগরদিঘির কেস আমি জানি কে দিয়েছে টাকা। একটা পার্টি জুটেছে হায়দরাবাদের। বলছে বিজেপি খুব ভাল। কারণ টাকাটা তো খুব ভালো। গ্যাস দিতে দিতে গ্যাস বেলুন ফুস হয়ে যাবে’, এই ভাবে কড়া আক্রমণ তৃণমূল সুপ্রিমোর । পাল্টা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী জানিয়েছেন , ‘সাগরদিঘির ভোট দিদির চুল খাড়া করে দিয়েছে। তাই এখন ফের সংখ্য়ালঘুদের বিভ্রান্ত করতে শুরু করেছেন’। মালদার কর্মসূচিতেও বারবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে উঠে এল মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি। আসন্ন পঞ্চায়েত ভোট, আর তাঁর আগে উপনির্বাচনে, জোরাল ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল । একুশের বিধানসভা ভোটে সাগরদিঘিতে ৫০ হাজারের বেশি মার্জিনে (৫০,২০৬) জিতেছিল তৃণমূল। কিন্তু এবারের উপনির্বাচনে সেখানেই তৃণমূলকে ২৩ হাজার ভোটে হারান বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী ।
উল্লেখ্য , সাগরদিঘিতে সংখ্যালঘু ভোটার প্রায় ৬৮ শতাংশ । যার মধ্য়ে তৃণমূল পেয়েছে ৩৫% ভোট। আর জয়ী কংগ্রেস প্রার্থী পেয়েছেন ৪৭ শতাংশেরও বেশি ভোট। ২০১১ থেকে সংখ্য়ালঘু ভোটব্য়াঙ্কে কার্যত তৃণমূলের একাধিপত্য় ছিল। কিন্তু, মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির ফল দেখে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে , তাহলে কি তৃণমূলের থেকে মুখ ফেরাচ্ছে সংখ্য়ালঘুরা? আর এই সংখ্য়ালঘু সমীকরণ নিয়ে জল্পনা কালে , মালদা থেকে আবারও এনআরসি-অস্ত্রে শান দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তিনি বলেছেন, ” আধার কার্ড না করলে তুমি বিদেশি। আবার চিঠি এসেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের। তবে কিছু সীমান্ত এলাকার নাম দিয়েছে। একটু যদি এদিক ওদিক হয় কার্ডে। এখনও এই কার্ড ওই কার্ড কার্ডের মালা হবে। একটু এদিক ওদিক হলে বলছে বিদেশি। অত সোজা নয়। আমি করতে দেব না। আমার তৃণমূল কংগ্রেস সরকার কখনও করতে হবে না। নির্বাচন আসলে ভোট টানতে জাতিদাঙ্গা ।” আসন্ন পঞ্ছায়েত ভোট ।
তার আগে শুরু তীব্র রাজনৈতিক তরজা ।







