আড়াইশো বছরের প্রাচীন রথ— তার মাহাত্ম্য আলাদা। আর সেই ঐতিহ্যের টানেই বছরের এই একটা দিনে হাজার হাজার ভক্ত ভিড় জমান মহিষাদলে। রথের রশিতে টান দিতে গিয়ে যেন উৎসবের জোয়ার বয়ে যায় গোটা এলাকায়। কিন্তু এবারের রথযাত্রায় সেই আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নেয় আতঙ্কে!
দিনভর বৃষ্টিতে রাস্তা কর্দমাক্ত, কাদা-পানিতে থইথই চারদিক। সেই অবস্থাতেই শুরু হয় রথ টানার প্রস্তুতি। ভক্তদের হুড়োহুড়িতে হঠাৎই শুরু ধাক্কাধাক্কি। পা পিছলে পড়ে যান অনেকে। এক মহিলার পায়ে আচমকাই পেঁচিয়ে যায় একটি সাপ! তীব্র চিৎকারে ছুটে আসেন স্থানীয়রা।
জানা গিয়েছে, আহত হয়েছেন অন্তত ১১ জন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বাকি আহতদের ভর্তি করা হয়েছে বাসুলিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে। এক মহিলাকে সাপে কামড়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রথযাত্রার মত বড় অনুষ্ঠানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল। রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি, বৃষ্টির কাদা এবং পুলিশের অভাবেই এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে দাবি করেন বিজেপি নেতা তপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “রশিতে পুলিশ ছিল না, এনসিসি-র ছেলেরা ভিড় সামলাচ্ছিল। এটা নিয়মবিরুদ্ধ।”
তবে মহিষাদলের তৃণমূল বিধায়ক তিলককুমার চক্রবর্তীর বক্তব্য, “এত বড় অনুষ্ঠানে এমন ছোটখাটো ঘটনা ঘটতেই পারে। একজনের কপালে একটু বেশি চোট লেগেছে, বাকিদের আঘাত ততটা গুরুতর নয়।”
এই ঘটনা ঘিরে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মহিষাদল ও আশপাশের এলাকায়। প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিয়ে। তবে এই দুর্ঘটনা রথযাত্রার ঐতিহ্যকে ছাপিয়ে ভয় আর ব্যথার স্মৃতি রেখে গেল এলাকার মানুষের মনে।







