কলকাতারাজ্য

আর জি কর হাসপাতালে ভূতুড়ে প্রেসক্রিপশনের অভিযোগে তোলপাড়, তদন্তে নামল কর্তৃপক্ষ

একবার নয়, ফের বিতর্কে নাম জড়াল রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। প্রায় এক বছর আগে হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য। আর এবার সামনে এল নতুন বিস্ফোরক অভিযোগ ভূতুড়ে প্রেসক্রিপশন!

সূত্রের খবর, হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের একাধিক চিকিৎসকের ফোনে সম্প্রতি এমন মেসেজ এসেছে, যাতে দেখা যাচ্ছে তাঁরা নাকি রোগীদের নানা ধরনের পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন -যেমন ব্রেন সিটি স্ক্যান, ডিজিটাল এক্স-রে, এমনকি এমআরআই। কিন্তু সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের দাবি, এই ধরনের কোনও পরামর্শ তাঁরা দেননি। স্ত্রী-রোগ, বায়োকেমিস্ট্রি ও মাইক্রোবায়োলজির মতো বিভাগগুলির চিকিৎসকরা এই ধরণের সন্দেহজনক মেসেজ পেতে শুরু করেছেন।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হল এই ভুয়ো প্রেসক্রিপশনগুলিতে ব্যবহার করা হয়েছে চিকিৎসকদের নাম, সই এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর, যা যাচাই করে দেখা গেছে, একাধিক ক্ষেত্রে তা সত্যিকারের চিকিৎসকের নয়, বরং অন্য কারও নামে নথিভুক্ত।

সরকারি হাসপাতালের পরীক্ষাগুলি সাধারণত PPP (Public-Private Partnership) মডেলে পরিচালিত হয়। সেই প্রক্রিয়ায় চিকিৎসকদের ফোনে পরীক্ষার অনুমতি সংক্রান্ত মেসেজ যায়। কিন্তু সেখানেই ফাঁস ধরেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ, হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টার থেকেই এই ভুয়ো প্রেসক্রিপশন চালান হচ্ছে এবং এর পেছনে কোনও আর্থিক স্বার্থ থাকতে পারে।

ইতিমধ্যে একাধিক অভিযোগপত্র জমা পড়েছে হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ ও মেডিক্যাল সুপারের কাছে। ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গঠন করা হয়েছে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি। এক সিনিয়র কর্তা জানিয়েছেন, “যদি কেউ এইভাবে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে থাকে, তা হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তদন্তে উঠে এসেছে, এই কাজ কোনও বহিরাগত নয়, হাসপাতালের ভিতরের কেউ না থাকলে সম্ভব নয়। কারণ চিকিৎসকের সই, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, এমনকি হাসপাতালের অফিসিয়াল স্টেশনারি পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছে।

তদন্তে সহযোগিতা হিসেবে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে বেশ কয়েকজন কর্মীকে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজও। অন্যদিকে, রোগী ও তাঁদের পরিবার ইতিমধ্যে দাবি তুলেছেন দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়ার। তাঁদের বক্তব্য, “এই ধরনের ঘটনা যদি ধামাচাপা পড়ে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ হাসপাতালের উপর আস্থা হারাবেন।”

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, প্রয়োজনে বিষয়টি রাজ্য প্রশাসনের উচ্চমহল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হবে।

এই ঘটনায় বড় প্রশ্ন উঠেছে-কীভাবে এত বড় প্রতিষ্ঠান এমন ভয়াবহ অনিয়মের কবলে পড়ল? এখন সকলের নজর হাসপাতালের তদন্ত রিপোর্টের দিকে -কে বা কারা এই ভুয়ো প্রেসক্রিপশন চক্রের নেপথ্যে, সেটাই জানার অপেক্ষা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.