বিদেশবিশ্ব

হোমের সেপটিক ট্যাংকেই পুঁতে দেওয়া হয়েছিল ৭৯৬ জন শিশুকে ! রহস্য উন্মোচনে , গণকবর খোড়ার নির্দেশ প্রশাসনের

৩৬ বছরে হোমে মৃত্যু ৭৯৬ জন শিশুর মৃত্যু ! কিন্তু নেই কোনো রেকর্ড ? এমনকি সমাধিস্থলও নেই ? প্রশ্ন , তা হলে কোথায় কবর দেওয়া হল মৃত শিশুদের ! দিনের পর দিন , এই প্রশ্ন দানা বেঁধেছিল , ক্যাথরিন কর্লেসের মনে । ক্যাথরিন জানতেন , বহু বছর আগে , হোমের জমিতে আপেল কুড়োতে গিয়ে , দুই শিশু হাড় খুঁজে পেয়েছিলেন , কিন্তু তা নিয়ে কোনো তদন্তই হয়নি । তাই ৩৯ বছরের পুরোনো রহস্য উদঘাটন করতে নিজেই মাঠে নেমে পড়েন ক্যাথরিন ।

স্থানীয় কিছু ম্যাপ ও নথি ঘেটে ক্যাথরিন হোমের জমিতে একটি সেপটিক ট্যাংকের খোঁজ পান । ঠিক যে জায়গায় , দুই শিশু হাড় খুঁজে পেয়েছিলেন, তার পাশেই ছিল সেপটিক ট্যাংকটি । ক্যাথরিনের মনে সন্দেহ জাগে যে , হোমের শিশুদের ওই সেপটিক ট্যাংকের মধ্যেই গণ কবর দেওয়া হয়েছিল । বিষয়টি ক্যাথরিন প্রকাশ্যে আনতেই , শোরগোল পড়ে গিয়েছিল গোটা দেশ জুড়ে । তদন্তে , ক্যাথরিনের ভাবনাই সত্যি হয়ে উঠে আসে । ক্যাথলিক সন্ন্যাসীদের একাংশ , সেপটিক ট্যাংকের ভিতরেই , হোমের শিশুদের গণ কবর দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নেন । সোমবার সেই তদন্তেরই এক ধাপ সম্পন্ন হলো।

প্রশাসনের তরফে , আয়ারল্যান্ডের তুয়াম শহরের পুরোনো সেই হোমের জমিতে ১৮ জন সদস্যের একটি দল , মৃত শিশুদের দেহাবশেষের খোঁজে খনন শুরু করেছে। এবিষয়ে ক্যাথরিন জানান , ‘‘শেষ পর্যন্ত এটা হচ্ছে দেখে স্বস্তি পেলাম। অনেক দিন ধরে এটার পিছনে লেগে রয়েছি। দীর্ঘ দিন অপেক্ষা করে রয়েছি। আজ আমার আনন্দের দিন।’’ যাঁর নেতৃত্বে এই খনন প্রক্রিয়া চলবে, সেই ড্যানিয়েল ম্যাকসুইনি জানান, ‘‘কাজটা খুবই কঠিন। এটা এখন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের কাজের পর্যায়ে চলে গিয়েছে। প্রথম কাজ হল, দেহাবশেষ খোঁজা। এর পর ডিএনএ পরীক্ষা করা। ডিএনএ মিলে গেলে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে, যাতে নিয়ম মেনে শিশুদের কবর দেওয়া যায়।’’

উল্লেখ্য , ক্যাথরিনের কথা অনুযায়ী, ১৯২৫ থেকে ১৯৬১ সালের মধ্যে আয়ারল্যান্ডের তুয়ামের ‘সেন্ট মেরিস মাদার অ্যান্ড বেবি হোমে’ মৃত্যু হয়েছিল ৭৯৬ জন শিশুর । প্রথমে ওই হোমে মূলত অবিবাহিত মা এবং তাঁদের সন্তানদের রাখা হলেও , পরে শুধু সন্তানদেরই থাকতে দেওয়া হতো হোমে। মায়েদের হোম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় । কিন্তু ১৯৬১ সালে পুরোপুরি ভাবে বন্ধ হয়ে যায় হোমটি । পরে হোমটির জায়গায় একটি আবাসন তৈরি হয় । পরে , ১৯৭৫ সালে , সেই আবাসনের দুই শিশু আপেল কুড়োতে গিয়ে হাড়ের খোঁজ পায়। আর তারপরেই গোটা ঘটনার রহস্য উদঘাটনে নামে ক্যাথরিন ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.