বিশ্ব

রাশিয়ার সঙ্গে তেল কেনায় ভারত-চিন-ব্রাজিলকে হুঁশিয়ারি, নিষেধাজ্ঞার পথে ন্যাটো ও আমেরিকা!

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে বারবার প্রচেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে আমেরিকা ও তার মিত্ররা। এবার তাই রাশিয়ার ‘অর্থনৈতিক ইঞ্জিন’ বন্ধ করতে ভারতের মতো বড় বাণিজ্যিক সঙ্গীদের উপর কড়া হুঁশিয়ারি দিল ন্যাটো। একেবারে স্পষ্ট ভাষায় রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলির বিরুদ্ধে ১০০ শতাংশ নিষেধাজ্ঞা জারির হুঁশিয়ারি দিলেন ন্যাটো প্রধান মার্ক রুট।

সরাসরি ভারতের নাম করে রুট বলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী, চিনের প্রেসিডেন্ট ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট, আপনাদের যদি মনে হয় আপনি রাশিয়ার থেকে তেল ও গ্যাস কিনে ব্যবসা করবেন, তাহলে প্রস্তুত থাকুন – আপনাদের দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “পুতিনকে দয়া করে ফোন করুন, তাঁকে বলুন শান্তি আলোচনায় গুরুত্ব দিতে। তা না হলে নিষেধাজ্ঞা ব্রাজিল, ভারত এবং চিন – প্রত্যেকের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”

রাশিয়ার ‘ব্যাক বোন’ কে?
বর্তমানে রাশিয়ার রপ্তানি হওয়া তেলের ৭০ শতাংশের ক্রেতা ভারত ও চিন। এছাড়া ব্রাজিল-সহ আরও একাধিক দেশ নিয়মিত রাশিয়ার জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানি করছে। আমেরিকার অভিযোগ, এই দেশগুলির ক্রয় চুক্তির মাধ্যমেই পুতিন ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারছে। ফলে, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে প্রথমেই রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবাহ বন্ধ করতেই হবে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন ও ন্যাটো।

মার্কিন কংগ্রেসে বিল: ৫০০% শুল্ক!
এই ইস্যুতে আরও একধাপ এগিয়ে মার্কিন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও রিচার্ড ব্লুমেন্থাল সংসদে একটি বিল পেশ করেছেন, যেখানে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে—যে সব দেশ রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করছে, তাদের রপ্তানি পণ্যের উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হোক। এই বিল ইতিমধ্যেই ৮৪% সমর্থন পেয়েছে, যা উদ্বেগজনক বার্তা বহন করছে ভারতের মতো দেশের জন্য।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি:
গত সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আগামী ৫০ দিনের মধ্যে যদি পুতিন যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হন, তাহলে রাশিয়ার উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে।” ট্রাম্পের এই বার্তার পরই ন্যাটো প্রধান একই সুরে ভারত-চিন-ব্রাজিলকে হুঁশিয়ারি দিলেন।

ট্রাম্পের কূটনৈতিক চাপ:
ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই নিজেকে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে তুলে ধরতে মরিয়া ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আনতে পারেননি তাঁরা। তাই যুদ্ধ থামাতে চাপ প্রয়োগের পথেই হাঁটছে আমেরিকা ও তার মিত্রেরা। এবার সেই চাপ গিয়ে পড়ছে ভারত, চিন, ব্রাজিল-সহ রাশিয়ার অর্থনৈতিক সহযোগীদের উপর।

বিশ্লেষণ:
ভারতের কাছে এটি একটি বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। একদিকে দেশের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে সস্তায় রাশিয়ার তেলের উপর নির্ভরশীলতা, অন্যদিকে আমেরিকা ও ন্যাটোর চাপ—এই দ্বৈত চাপে ভারত কোন পথ বেছে নেবে তা আগামীদিনে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.