গঙ্গাসাগর: শেষরক্ষা আর হলো না। একে একে তলিয়ে যাচ্ছে ইট বিছানো রাস্তা, ভেঙে পড়ছে ইলেকট্রিক পোস্ট। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গঙ্গাসাগরের কপিলমুনি মন্দির চত্বরে। নিম্নচাপের জেরে উত্তাল বঙ্গোপসাগর আর সেই সঙ্গে ভয়ংকর জোয়ারের তোড়—সব মিলিয়ে বড়সড় সংকটের মুখে পড়েছে পুণ্যভূমি গঙ্গাসাগর।
বুধবার সকাল থেকেই কপিলমুনি মন্দির প্রাঙ্গণের এক নম্বর স্নানঘাট থেকে শ্মশান ঘাট পর্যন্ত প্রায় হাফ কিলোমিটার ইটের রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে একাধিক ইলেকট্রিক পোস্ট, যা ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করতে বাধ্য করেছে প্রশাসনকে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, আতঙ্কে এলাকা ছাড়তে শুরু করেছেন বহু বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দা মর্জিনা বিবি চোখের জল চেপে বলেন,
“রাস্তা নেই, আলো নেই, শুধু ঢেউয়ের শব্দে কাঁপছে মন। আমরা জানি না, আগামী জোয়ারে আর কী কী হারাতে হবে!”
রাজ্য সরকার নদীভাঙন রোধে অস্থায়ীভাবে কাজ করলেও, সেই বাঁধও একে একে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে গঙ্গাসাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান হরিপদ মণ্ডল জানান—
“আমরা চাই স্থায়ী কংক্রিট বাঁধ হোক। একমাত্র কেন্দ্র-রাজ্য যৌথভাবে উদ্যোগ নিলেই এই সনাতন ধর্মের প্রতীক কপিলমুনিকে রক্ষা করা সম্ভব।”
প্রশ্ন উঠছে—কয়েক বছরের মধ্যেই কি কপিলমুনি মন্দির থাকবে শুধুই ইতিহাসের পাতায়?
ভাঙন যে গতিতে এগোচ্ছে, সেই আশঙ্কাই প্রকাশ করছেন পরিবেশবিদ ও স্থানীয়রা।
এখনই সময়, স্থায়ী সমাধানের। না হলে হারিয়ে যাবে এক ধর্মীয়-ঐতিহ্যের তীর্থক্ষেত্র—গঙ্গাসাগর।







