নয়া দিল্লি: আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের প্রাক্তন সিইও ছন্দা কোছাড় এবং তাঁর স্বামী দীপক কোছাড়কে ঘুষ ও অর্থ পাচারের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করল দিল্লির অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর পক্ষ থেকে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্তকে বৈধ ও যথাযথ বলে স্বীকৃতি দিল ট্রাইব্যুনাল।
৩ জুলাইয়ের আদেশে জানানো হয়েছে, ভিডিওকন গ্রুপকে ৩০০ কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুরের বিনিময়ে ছন্দা কোছাড় ৬৪ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন—একটি ‘কুইড প্রো কো’ চুক্তির মাধ্যমে। সেই টাকা দেন তাঁর স্বামী দীপক কোছাড়ের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা নুপাওয়ার রিনিউয়েবলস প্রাইভেট লিমিটেড-কে।
এই ঘুষ লেনদেনের প্রক্রিয়া শুরু হয় আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের ঋণ বিতরণের একদিনের মধ্যেই। ভিডিওকন-এর সহযোগী এসইপিএল থেকে দীপকের সংস্থার অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার হয়। যদিও নথিতে সংস্থার মালিক হিসেবে বেণুগোপাল ধুত-এর নাম থাকলেও, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ ছিল দীপক কোছাড়ের হাতে—যিনি একইসঙ্গে সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদও সামলাচ্ছিলেন।
ট্রাইব্যুনাল তাদের রায়ে বলেছে, ছন্দা কোছাড় এক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে স্বার্থের সংঘাত গোপন করেছেন, ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ নীতি লঙ্ঘন করেছেন, এবং ঋণের পেছনে ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে।
এছাড়া, ট্রাইব্যুনাল ২০২০ সালে কোছাড় দম্পতির বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ফেরতের সিদ্ধান্তকেও “ত্রুটিপূর্ণ” বলে অভিহিত করে তা বাতিল করে দেয়।
ED আগেই ছন্দা ও দীপকের বিরুদ্ধে অর্থপাচার মামলা দায়ের করেছিল। সেই মামলার ভিত্তিতে ২০২০ সালে তাদের ৭৮ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। ED-এর তল্লাশিতে তাঁদের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় নগদ ১০.৫ লক্ষ টাকা।
এই মামলার রায় আরও একবার স্পষ্ট করল—দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত স্বার্থ ও কর্পোরেট প্রভাব কতটা গভীরভাবে জড়িয়ে যেতে পারে এবং সেটি কীভাবে আইন ভেঙে যায়, তা কতটা ভয়ঙ্কর ফল বয়ে আনতে পারে।







