‘
দিল্লির জয়হিন্দ কলোনিতে বসবাসকারী বাংলাভাষী বাসিন্দাদের উচ্ছেদের বিরুদ্ধে পাতিয়ালা হাউস কোর্টে জোরালো ধাক্কা খেল প্রশাসন। আদালত উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ জারি করেছে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ জানায় তৃণমূল কংগ্রেস। এই রায়কে ‘ন্যায়ের পক্ষে বড় জয়’ হিসেবে তুলে ধরেছে রাজ্যের শাসকদল।
দিল্লির অভিজাত বসন্তকুঞ্জের লাগোয়া জয়হিন্দ কলোনিতে বহু বছর ধরে বসবাস করছেন বহু বাংলাভাষী পরিবার। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই কোচবিহার জেলার বাসিন্দা। অভিযোগ, সম্প্রতি ওই এলাকায় তাঁদের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার জন্য তাঁদের হেনস্থা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
তৃণমূলের তরফে এই অভিযোগ সামনে আসার পর দলের এক প্রতিনিধি দল জয়হিন্দ কলোনিতে যান। সেখানে রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ, সুখেন্দুশেখর রায়, দোলা সেন এবং নেতা সাকেত গোখলে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বাংলাভাষী বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে ২৪ ঘণ্টার ধরনায় বসেন।
তৃণমূল নেতাদের দাবি, কেন্দ্র এবং দিল্লি পুলিশ পরিকল্পিত ভাবে বাংলাভাষীদের নিশানা করছে। কয়েক মাস আগেই ওই কলোনিতে পরিচয়পত্র যাচাই করা হয়, কিন্তু একটিও বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা চিহ্নিত হয়নি।
পাতিয়ালা হাউস কোর্টের রায় সামনে আসার পর এক্স হ্যান্ডলে সাগরিকা ঘোষ লেখেন, “প্রত্যেক বাংলাভাষী ভারতীয়র ন্যায়ের জন্য তৃণমূলের এই লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ এই স্থগিতাদেশ। কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি যতই চেষ্টা করুক, বাংলা ও বাংলাভাষীদের ‘টার্গেট’ করার রাজনীতি সফল হবে না।”
তৃণমূলের তরফেও এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে বলা হয়েছে, “ন্যায়ের জন্য লড়াইয়ে এটা এক বড় পদক্ষেপ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলাভাষী ভারতীয়দের পক্ষে তৃণমূলের লড়াই চলবে।”
সামগ্রিকভাবে এই রায় বাংলাভাষী বাসিন্দাদের কাছে যেমন স্বস্তির, তেমনি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।







